Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
Showing posts with label গল্প কথা. Show all posts
Showing posts with label গল্প কথা. Show all posts

আজো চিৎকার করে ডাকে


নীলা আজ এমন একটা কাজ করবে নিরব ভাবেনি। প্রস্তুতও ছিল না এজন্য।
অবশ্য থাকার কথাও না। নিরব জানে নীলা একটা পাগলি। মাথায় হুটহাট যা আসবে তাই করবে। কিছুতেই তাকে রোখা যায় না।সেই যে সেবার মধ্যরাতে দু’টো কি তিনটা হবে; হঠাৎ নীলার ফোন।: কি করিস নিরব?: কাবাডি খেলি! রাতে মানুষ কি করে?: স্বপ্ন দেখে।: তো দেখ না। আমার স্বপ্নের তেরটা বাজাস কেন?: কারণ, একটু আগে স্বপ্নে দেখলাম তোকে নিয়ে রিক্সায় ঘুরছি।: আর কোন স্বপ্ন পেলি না!: নিরব…: কি?: চলে আয়।: চলে আয় মানে!: মানে, চলে আয় বাসার সামনে। তোকে নিয়ে রিক্সায় ঘুরব।: মাথা খারাপ নাকি? এত রাতে!: তুই আসবি? নাকি আমাকেই আসতে হবে?নিরবের জানা আছে পাগলিটাকে কিছুতেই বোঝানো সম্ভব না। একবার যেটা মাথায় ঢুকবে সেটা করেই ছাড়বে। তবু প্রায় আধ ঘন্টাখানেক বোঝানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে অতঃপর নিরব যেতেই হয়েছিল নীলার বাড়ির সামনে। তবে অত রাতে রিক্সা না পাওয়ায় শেষ রাত অব্দি অনেক হেঁটেছিল ওরা। পাশাপাশি…



আজকের পাগলামিটা অবশ্য সেটাকেও হার মানায়।
পাগলিটা হঠাৎ করেই বলে কিনা, নিরব চলে আয়। কই আসতে হবে? কাজী অফিস! আজ এক্ষুণি বিয়ে!
নিরব সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর ওই ঘোর লাগা অবস্হাতেই চকবাজারস্হ কাজী অফিস।
নীলা আগেই দাঁড়িয়ে আছে। পরনে একটা নীল শাড়ি আর কপালে একটা মাঝারি সাইজের নীল টিপ। এই সাজে ওকে পরী পরী লাগছে। ওর সাথে একটা লাগেজ। নিরব এখনও বুঝতে পারছে না কি করা উচিত।
: এই গাধা, এত দেরী! চল।
: যাব মানে?
: ভেতরে চল।
: ভেতরে কি হবে?
: তুই কি বাচ্চা নাকি! ফিডার খাস?জানিস না কি হবে?
: কিন্তু কেন?
: বাবা ছেলে দেখছে। আমার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব না।
: ছেলে দেখছে তো সমস্যা কি? বিয়ে করবি না?
: করার জন্যেই তো এসেছি।
: মানে!
: মানে, আজ তোর বিয়ে। আয় আর কথা বাড়াস না।
: নীলা!...
: কি বলার পরে বলিস। এখন চল।
: না, এখন শোন। তোর সমস্যা কি? সবকিছুই কি স্বপ্ন মনে করিস? যে ঘুমের ঘোরে দেখলাম আর যা ইচ্ছা হল, তাই করলাম?
নীলা যেন হঠাৎই হোঁচট খেয়ে থমকে গেল।
: মানে! তুই আমাকে বিয়ে করবি না?
: কি বলিস এসব নীলা! পাগল হয়েছিস?
: এভাবে বলিস না নিরব। এটা মজার সময় নয়।
নিরব চোখ তুলে চায় নীলার চোখে। ওর চোখের কালো তারা ঘিরে জল টলমল করছে। নিরব আগে খেয়াল করেনি নীলা আজ চোখে নীল কাজলের আঁক টেনেছে। ওর চোখ দেখে মনে হচ্ছে নীল আকাশের বুক চুইয়ে এই বুঝি ঝরে পড়ল জমাট বাঁধা শ্রাবণঢল। তবু আজ নিরবের শক্ত না হলে চলবে না।
: শোন নীলা, তুই সবসময়ই আমার সব’চে ভাল বন্ধু।
তুই আমার রঙিন জীবনের হাজারটা মধুর স্মৃতি। তোর সাথে কাটানো প্রতিটা সময় আমার কাছে এক একটা কবিতার মত। এই পৃথিবীতে যতটা আমিতোকে জানি-বুঝি, আর কাউকেই ততটা নয়। তোর সাথে আমার প্রথম বৃষ্টিভেজা দুপুর হুডখোলা রিক্সায়। তোর সাথে আমার সারা বিকেলের পাগলামি।
এ সবই ঠিক। কিন্তু, এর মানেই তো বিয়ে নয়, ভালোবাসা নয়। আমি তোকে আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু বলে জানি।

: নিরব, আমি তোকে ভালবাসি…
: নীলা, প্লীইইইজ…
আর কিছু না বলে হাঁটা শুরু করে নিরব। একবার আলতো ঘাড় ফিরিয়ে দেখে, নীলা সেখানটাতেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিবর চলে আসে দ্বিতীয়বার না তাকিয়ে।
জানতেও পারে না তার ফেলে আসা পথে একটা বিশাল ভিড় জমে উঠছে।


কাজী অফিস থেকে বেরিয়েই তিন্নি শুভ্রর দিকে তাকিয়ে হাসে। তারপর দুজনেই সামনে এগোয়।
রাস্তার ডানপাশে উষ্কখুস্ক চুল দাঁড়িওয়ালা একজন লোক দাঁড়িয়ে সামনের রাজপথের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিন্নি শুভ্রকে ডেকে বলে, ফকিরটাকে কিছু টাকা দাও, আজ একটা শুভদিন।
শুভ্র ফকিরের দিকে পা বাড়াতেই পাশের একজন দোকানদার বাঁধা দেয়,
ভাইজান উনি ফকির না। পাঁচ বছর আগে একটা মেয়ে ওই বড় রাস্তায় গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা গিয়েছিল।ঘন্টা খানিক পর ছেলেটা দৌড়ে এল।
সেই যে এল তো এলই। তখন থেকেই খালি রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে আর মাঝে মধ্যে আনমনে কাঁদে।
আর রাত গভীর হলে একাকি বহুদূর হাঁটে। আর মাঝে মধ্যে
চিৎকার করে ডাকে, নীলা…. নীলা……




💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏
💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏 💏

 

শেষ বিকেলের মেয়ে


অনেক অনেক দিন আগে ঢাকায় একটা মেয়ে থাকত। তার নাম ছিল ছোয়া। দেখতে ছিল অনেক কিউট। সে যখন ক্লাস ৭ এ পড়ে তখন থেকেই তার পিছনে ঘুরঘুর করত অনেক ছেলেপুলে। তাদের মাঝে ইমন ও ছিল।
ইমন সম্পর্কে কিছু বলি...
ছেলেটি ছিল খুব ভদ্র স্বভাবের। এতই ভদ্র ছিল যে মাঝে মাঝে তার ক্লাসের ছেলেরা তাকে অনেক কিছু বলে খেপাত কিন্তু সে কিছু করতে পারত না।

অনেক ছেলের মাঝে কি করে যেন ইমন কে ভাল লেগে গেল ছোয়ার। সে কাউকে বুঝতে দিত না। তবে ইমন কে দেখে তার চেহারার খুশি খুশি ভাব দেখে সবাই ঠিক ই বুঝেনিত কি কাহিনী।
এদিকে ইমনের ও একই অবস্থা । সে নানা রকম প্ল্যান করতে লাগল কি করে ছোয়া কে প্রপোজ করবে। একদিন ছোয়াকে ছুটির পর একা

পেয়ে চুপি চুপি গেল ছোয়ার কাছে তার মনের কথা গুলো বলার জন্য।

ছোয়া অনেক আগে থেকেই ফলো করছিল ইমন কে। ইমনকে তার দিকে আসতে দেখেই সে এলার্ট হয়ে গেল।
 ছোয়া , একটু দাড়াবে?
 হুম, কেন?
 তোমাকে একটা কথা বলার ছিল?
 বল শুনছি।
 শুনবে ঠিক আছে কিন্তু একটা শর্ত আছে। কথা টা শুনে কিছু মনে করতে পারবে না। হ্যাঁ না কিছুই বলতে পারবে না। শুধু শুনে যাবে......
 হ্যা না এর কথা আসছে কেন? এমন কি বলবে যার জন্য এত টেনশন করতেছ??
 আমি তোমাকে ভালবাসি ছোয়া। I heart emoticon U....
যদি হ্যাঁ হয় তবে বল, না হলে কিছু বলার দরকার নেই। অনেক কথার ভিড়ে এই কথা টাকে ভুলে যেও।
ভুলে যাব কেন? অনেকের এধরনের কথা যেমন হিসেবের খাতায় তুলে রাখছি এটাকেও রাখব। তবে এটা টপে থাকবে....
মানে?? gasp emoticon
 মানে এই ছোট কথাটা বলার জন্য এত দেরি করলে কেন?? আমি কতদিন ধরে এই কথাটা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি জানো??
আমি তো কখনো বুঝতে পারিনি।
 তোমরা ছেলেরা কখনো মেয়েদের কে বুঝবে না....
স্যরি
ধুর তুমি একটুও রোমান্টিক না, আমাকে আইসক্রিম খাওয়াও....

এইদিন থেকে শুরু হল ইমন আর ছোয়ার নতুন জীবন...
তারা একসাথে সব কাজ করত, তাদের প্রায়ই একসাথে দেখা যেত, স্কুলে, ক্যান্টিনে , লাইব্ররীতে....
তাদের দিন শুরু হত মিষ্টি ঝগড়া আর শেষ হত ভালবাসার কিছু মিষ্টি কথা দিয়ে....

কিন্তু তাদের ভালবাসার বাস্তবতা ধীরে ধীরেই টের পেতে শুরু করল ইমন....
ছোয়া ছিল খুব আপডেট একটা ফ্যামিলির মেয়ে। তার ফ্যামিলিতে অয়েস্ট্রান কালচার এলাউড ছিল...
সে সুবিদার্থে মেয়েরা অপেন ঘোরাফেরা করতে পারত...

কিন্তু এ ব্যাপারটি ইমনের পছন্দ ছিলনা...
কারন ইমনের পরিবার ছিল ইসলামিক মাইন্ডের।যায় ফলস্রুতিতে ঐ পবিবারের মেয়েরা বোরকা পরে বাইরে যেতে হত এবং মানতে হত অনেক রুলস...

এদিকে ইমন ছোয়াকে বোরকা পরতে বললেও ছোয়া তার ফ্যামিলির কারনে তা করতে পারছিল না। একারনে তাদের রিলেশনে কিছুটা দুরত্ব হতে শুরু করল। এই কিছুটা থেকে এক সময় অনেকটা...

এদিকে ইমন ছোয়াকে বোরকা পরতে বললেও ছোয়া তার ফ্যামিলির কারনে তা করতে পারছিল না। একারনে তাদের রিলেশনে কিছুটা দুরত্ব হতে শুরু করল। এই কিছুটা থেকে এক সময় অনেকটা...
ইমনের কথা না মানতে পারাও ইমনের চলে যাওয়ার কারনে ছোয়া কিছুটা আপসেট ছিল। যে কারনে সে তার পুরনো ফ্রেন্ড নিরব এর সাথে কথা বলে তার দুঃখ শেয়ার করত।
ইমনের কানে এই নিউজ টা গেলে সে আরো ভুল বুঝে যে কারনে সে আরো দুরে চলে যেতে চায় কিন্তু সে ছোয়াকে ভালবাসে। বার বার তার মন চায় ছোয়ার কাছে ফিরে যেতে, এদিকে ছোয়ার ও একই অবস্থা। কিছুদিন পর তাদের যখন দেখা হল তারা আর একে উপরের উপর রেগে থাকতে পারল না। কাছে এসে জরিয়ে ধরল...
আবার ঠিক হয়ে গেল তাদের রিলেশন।
এভাবেই এগুতে থাকল তাদের রিলেশন, এখন তো তাদের ১ঘন্টা পর ব্রেক আপ হয়, ২ঘন্টা পর ই দেখাযায় তারা একসাথে ঘুরছে, ছোয়া নানা রকম বায়না ধরছে, আর ইমন তার এই মিষ্টি কথা গুলো বার বার শোনার জন্য সব বায়না পুরন করায় ব্যাস্ত.....

সব ঠিক থাকলেও ইমনের মনে একটা ভয় ছিল, তার ফ্যামিলি এই রিলেশন টা কোনদিন ই মেনে নেবে না। আর হলোও তাই...
ইমনের উপর খুব চাপ আসলো যে সে যেন এই মেয়ের সাথে আর রিলেশন না রাখে......
এদিকে ছোয়ার ও একি অবস্থা তার বাবা তাকে তার এক ফ্রেন্ডের ছেলে যে কিনা ইংল্যান্ড থাকে তার সাথে বিয়ে দিবে বলে ঠিক করে রেখেছে....

ইমন একদিন ছোয়াকে এসে বলল, তার আর ছোয়াকে ভাল লাগছে না। সে অন্য মেয়েকে ভালবাসে। ছোয়ার সাথে মিথ্যে ভালবাসার অভিনয় করেছে।সে আরো বলে তাকে ভুলে যেতে। তারপর সে ছোয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায়....
ইমন কেন এমন করল ছোয়া তার কিছুই বুঝতে পারে না। সে শুধু দিন রাত কাঁদে ইমনের জন্য।

ইমনের অবস্থাও যে খুব ভাল তা কিন্তু নয়। ইমনের ছোয়াকে ছাড়া আর কিছুই ভাল লাগেনা.... সারা দিন নানা দুঃচিন্তায় কাটে...
ছোয়াকে না দেখে সে থাকবে পারবে না। তাই সে ছোয়া কে একটা চিঠি লেখে....

জানপাখি,
কেমন আছ তুমি? তোমাকে ছাড়া একটুও ভাল লাগেনা। আমি বুঝতে পারিনি আমি তোমাকে এতটা ভালবাসি। আমি কথার জন্য আমি স্যরি লক্ষিটি। আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি। অনেক অনেক ভালবাসি heart emoticonheart emoticon । আমি একটা কাজে অনেক দুরে আসছি, আর আমি কাছে না থাকলে তোমার কেমন লাগে আর তুমি আমাকে কতটা ভালবাস এই কথাটা জানার জন্য আমি ঐ কথা টা বলছিলাম। প্লিজ রাগ করোনা আমার মন পাখি। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব...
তুমি বিকেলে ঐ রোদ্দুরে ঐ গাছটার নিচে তাকিয়ো, আমাকে দেখতে পাবে আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। আমি কিন্তু বিকেলে তোমার জন্য অয়েট করব লক্ষিটি তুমি চলে এসো....
তোমার জান।

এই চিঠিটি বুকে জড়িয়ে ছোয়া কঁদল কিছুক্ষন। তারপর তাকাল দুর আকাশের দিকে । আবার কিছুক্ষন কাঁদে । এভাবেই চলতে থাকে ছোয়ার জীবন। আজ দশটি বছর পেরিয়ে গেছে ইমন এমন এখনো ফিরে আসে নি। ইমনের দেয়া চিঠিটি সে আজও বুকের মাঝে আগলে রেখেছে....

এখন ও মাঝে মাঝে বিকেলে ছোয়াকে দেখাযায় ছাদে।তার বিয়ে হয়েছে। তবুও মনের ভিতর থেকে সে কেমন জানি একা। বিষন্ন বিকেলে সে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে,বুকের মাঝে চেপে ধরে রেখেছে ইমনের সেই চিঠি, আর দুচোখ বেয়ে ঝরে পরছে অশ্রু......
Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks