পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক বিকাশের সর্বশেষ স্তর সাম্রাজ্যবাদ দেশে দেশে বিস্তার করেছে। এখন দেশে - দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, তার সার্বভৌমত্যের, সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রণের জন্যে আর যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার দরকার নেই। ঠান্ডা যুদ্ধের পর, সোভিয়েত দেশে এবং পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলোতে সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থার পতনের ফলে, মার্কিন রাষ্ট্র এক মেরূর বিশ্বায়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে শুরু করে দিয়েছে। দেশে দেশে চলছে বাজার দখলের কাজ। আর এই পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের বিশ্বস্ত সহায়ক সর্বগ্রাসী বহুজাতিক ভোগবাদী দর্শনের ধারক ও বাহক প্রচন্ড শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম বা প্রচারমাধ্যম। দেশের সাধারণ মানুষ, বুর্জুয়া সংবাদমাধ্যমের “ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট” বা opinion” এর কৃপায় বিভ্রান্ত ও চেতনা বিকাশে দিকভ্রষ্ট হয়ে, গঠনমুলক পরিবর্তন এর সাথে ধ্বংসাত্বক পরিবর্তনের রাস্তা গুলিয়ে ফেলেছে । বিশ্বায়ণের আক্রমণ কেবলমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাংস্কৃতিক জগতকেও সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন দারূনভাবে প্রভাবিত করছে। সাথে প্রভাবিত করছে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবি মহল কে। তৈরি করছে আমাদের দেশে তাদের পচ্ছন্দসই “সুশীল গোষ্টি “ এবং তাদের মুখ ঢেকে দিচ্ছে মেকি এবং অতি বামপন্থার মুখোশ দিয়ে। মার্কিন দেশ উন্নত উৎপাদনশীল দেশ , যে সব কিছুর উৎপাদনেই বিশ্বের বাজার দখলের শীর্ষে। তার মধ্যে ওনারা “ওপিনিয়ান “ বা জনমত, অর্থাৎ দেশের মানুষের নিজ্বস্ব বোধবুদ্ধি, চিন্তা - চেতনা বিকাশের সব দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছেন। প্রত্যেকটি দেশে জনমত তৈরি করার মহান দ্বায়িত্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বৃন্দ কুক্ষিগত করার চেষ্টায় আছে। তাই সব কিছু ম্যানুফ্যাকচারিং এর বিশ্বায়নেরসাথে এই সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের আরেক অপ-প্রচেষ্টা, জনমত তৈরি এবং তার প্রধান দ্বায়িত্ব নিয়েছে বাজারি কিছু সংবাদমাধ্যম। যাতে দেশ দখল করার আগে কিছু বুদ্ধিজীবিদের মস্তিষ্ক বিকৃত করা যায়। সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের তৎপরতা থাকে যেকোনো ভাবে ইতিহাস এর প্রকৃত ঘটনা র বিকৃতি ঘটিয়ে জনমত তৈরি করার। এই ফর্মূলাতে কমিউনিষ্ট দের জনসমক্ষে কাটগড়ায় দাঁড় করানো এবং নিজেদের তৈরি জনমতের ভিত্তিতে কমিউনিষ্ট নিধন যজ্ঞ চালানো।
প্রচারমাধ্যম ও এন জি ও দের ভূমিকা
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রধান হাতিয়ার তাই কমিউনিষ্ট এবং শান্তিকামী গনসংঘঠন গুলি র বিরুদ্ধে ‘ঘৃণাজর্জ্রিত প্রচার-অভিযান ’ জারি রাখা এবং এর জন্যে খোলা হয়েছে দেশী - বিদেশী প্রচুর প্রচারমাধ্যমে, চ্যানেল, ওয়েবসাইট, ব্লগ ইত্যাদি। বিশ্বায়নের মানবিক মুখ বা “Globalization with a Human Face” বা “Millennium Goal “ এর দর্শন প্রচার করতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতন জন্ম নিচ্ছে এক গুচ্ছ এন জি ও। এদের কাজই হচ্ছে, তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ নীপিড়িত, বিশ্বায়নের দ্বারা শোষিত শ্রেনীর ক্রোধ প্রশমণ করা এবং শ্রেণী সংগ্রাম ও বিক্ষোভ হতে এদের বিমুখ ও ভ্রান্ত করা। এরা দ্বায়িত্ব সহকারে প্রচার করছে যে মানুষের দুঃখ্য, কষ্ট প্রশমন করতে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রবক্তারা কতোটা উদগ্রীব এবং তাই অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সংগ্রামে গিয়ে কোনো লাভ নেই । মানুষের কষ্ট , দুঃখ্য লাঘব করতে পারে একমাত্র এই এন জি ও গুলি। বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থা (উজ্জ্বল উদাহারণ হিসেবে বিল গেটস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট) তাদের শোষিত লাভ্যংশের একটি ছোট অংশ এই এন জি ও মারফত কিছু -মিছু খরচা করে প্রমাণ করতে চাইছে যে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের ত্বত্ত্ব কতটা মহার্ঘ এবং তাদের সৃষ্ট প্রচার মাধ্যম কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ্য। শ্রেনী বিভক্ত সমাজে কেউ শ্রেনী নিরপেক্ষ্য নয়। এই নিরপেক্ষ্যতার মুখোশের আড়ালে এই “স্বাধীন” প্রচারমাধ্যম সাথে এন জি ও গুলি অন্তরিক্ষে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে এবং প্রভুত সম্পত্তি লুন্ঠন করছে । শ্রমজীবি সর্বসাধারণকে তাদের শ্রেনী সংগ্রাম থেকে বিমূখ করার প্রচেষ্টা। এই “স্বাধীন” ও “নিরপেক্ষ্য” প্রচারমাধ্যমের আরেকটি কাজ হলো নানান দেশের আভ্যন্তরীন রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় নাক গলানো। সম্প্রতি চিনের সিংজিয়াং প্রদেশে হান এবং উইঘুর সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দাতা হিসেবে এই প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা মারাত্মক রকমের গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ওনাদের দেশের একটি তথাকথিত “গনতান্ত্রীক” সংস্থা (NED National Endowment for Democracy) মাধ্যমে দেশে দেশে “গনতন্ত্র” প্রতিষ্টায় পরিত্রাতা হয়ে অবতরণ করেছেন। এই নেড আমেরিকান উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি রেবিয়া কাদির কে যথেষ্ট উস্কানী এবং মদত দিয়ে সিংজিয়াং প্রদেশ কে চিন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। অন্তরিক্ষে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ যথেষ্ট তৎপর। উদ্দেশ্য একটাই সিংজিয়াং প্রদেশকে আলাদা রাস্ট্র করে , চিন কে অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল করা। এবং কাজাখাস্তান, তুর্ক্মেনিস্থান ক্রিমিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে তেলের দখল কায়েম করা। এই হচ্ছে প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষ্যতার উদাহারণ। ঠিক এরকমই এন জি ও ও প্রচার মাধ্যমের “হেট ক্যাম্পেনের” মাধ্যমে মার্চ ২০০৮ সালে লাসা তে “ক্রিমসন” বিপ্লব, বার্মা- মায়ান্মারে “গেরুয়া বিপ্লব” , যুগোস্লাভিয়ায় ‘বুলডোজার- বিপ্লব’ , জর্জিয়ায় ‘গোলাপ- বিপ্লব’ , ২০০৪-০৫ সালে ইউক্রেনে কমলা বিপ্লব, ২০০৫ সালে কির্গিস্তানে ‘টিউলিপ - বিপ্লব’ ইত্যাদি নামে ষড়যন্ত্র হয়েছে। নানাবিধ প্রতিক্রিয়াশীল , বিভেদকারী রঙ্গীন বিপ্লবকে অন্তরিক্ষে প্ররোচণা দেওয়া এবং সাম্রাজ্যবাদী দর্শনে দেশে গুলির সার্বভৌমত্ব কে ভেঙ্গে দিয়ে আর্থনৈতিক, তেলের, প্রাকৃতিক গ্যাস লুন্ঠন কে ত্বরান্বিত করা। আমাদের দেশ থুড়ি আমাদের রাজ্যে “মোমবাতি” বিপ্লব কেও এর একটা ছোট উদাহারণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। আশির দশকে নিকারাগুয়েতে অর্তেগার সরকারকে ফেলে দেবার উদ্দেশ্যে এবং মার্কিন পুতুল সরকার প্রতিষ্টার উদ্দেশ্য রেগানের ইরান-কন্ট্রা ষড়যন্ত্র প্রায় সকলেরই জানা। বর্তমানে ইরানে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার কে বে-আইনি সাব্যস্ত করতে প্রচারমাধ্যম ঊঠে পড়ে লেগেছে। এই সব বিপ্লবের তাই অনেক পোষাকই নাম দিয়ে বিশ্বের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশে দেশে মার্কিন প্রভূত্ব বজায় রাখাই এই প্রচারমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য।
আমাদের দেশে ও রাজ্যে প্রচারমাধ্যম ও বিজ্ঞাপন
আমাদের দেশে বা পশ্চিমবঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী মদতে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা যে সব পাপাচার- খুন, কমিউনিষ্ট বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চলছে তা প্রত্যন্ত ভিন্ন ঘটনা নয়, এসব দেখে আশ্চর্য্য হবার মনে হয় কোনো কারণ নেই। ইতিহাসের পাতা এবং প্রকৃত তথ্য অনুধাবন করলে জানা যায় যে কমিউনিষ্ট দের হত্যা করার লিষ্ট তৈরি করা হয়েছিলো আগেও, হিটলার এবং তাঁর প্রচারসচিব গোয়াবেলস এই কার্য্যে বিপুল পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। ব্রিটিশ দ্বীপপূঞ্জে ওনার তথাকথিত প্রস্তাবিত এবং কল্পিত “গেস্টাপো” রাজ্য তার সাক্ষ্য বহন করে। কমিউনিষ্ট দের হত্যা করা জন্যে লিস্ট তৈরি করা হয়েছিলো। শুধু জনমত তৈরি করে । সত্য মহার্ঘ শিল্প। জনমত তৈরি করার। কত মানুষেরই উপকারে না লেগেছিলো। কমিঊনিস্ট নিধন যজ্ঞ শুরু হয়েছিলো মানুষকে ভ্রান্ত করে ক্ষেপিয়ে এবং পরবর্তি কালে আক্রমন নেমে এসেছিলো প্রগতিশীল, সৃজনশীল, যুক্তিবাদী , ত্বাত্তিক এবং সাধারণ শান্তি কামী মানুষের ওপর ও। বাদ যায় নি সংবাদমাধ্যম ও। সংবাদমাধ্যমের এই স্বাধীনতা হরণ আমাদের দেশে ও নতুন নয়। আনন্দবাবুদের ও জানার কথা যে একসময় ৭২ থেকে ৭৭ এর জরুরি অবস্থান কালে, তাদের সংস্থার কর্মকর্তাদের ও হাজত বাস করতে হয়েছিলো। সেই সময় তো সব সংবাদমাধ্যম কে , পরের দিনের খবর এর প্রীন্ট বা বিষয়বস্তু রাইটার্স ছুইয়ে আনতে হতো। ইংরাজি তে যাকে বলে “Vetting”। ওনারা ভোলেননি। কারণ মানুষকে ভোলাবার “সাধু “ দ্বায়ীত্ব নিয়ে বাজারে নামলেও, ওনাদের তো পেছনে আছে বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। উৎস বৃহৎ কর্পোরেট মহল এর বিপূল পূঁজি । তাদের সাথে মানূষ পারবে কিভাবে ? তাই ওনাদের তাৎক্ষনিক দর্শন, সমকালীন, সময়োপযোগী ঘটনাতে মন নিবিষ্ঠ রাখতে হবে, না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে। ওনাদের সাংবাদিক যখন মাওবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তখন ওনারা চুপ থাকেন। কারণ পেছণে আছেন ওনাদের ব্রান্ড মিডিয়ামেড “সর্বেশ্বরী”। খেপে গেলেই চাকরি যাবে। বূর্জুয়া-জমিদার শ্রেণীর বেতনভোগী সেবাদাস কলমচীদের চাকরী যাবে। বেচারা রেলদপ্তরের অফিসার টির করুণ দশা নিশ্চয় এনাদের মনে থাকার কথা। আনন্দবাবু দের আনন্দ চিরকালের জন্যে ঘুচে যাবে। সাংবাদীকতার মতন একটী সাধু পেশার কি অবমূল্যায়ন! স্বাধীনতার আগেও সর্বশ্রেনী মানুষের ব্যাপক দেশ স্বাধীন করার স্পৃহা সাথে অর্থনৈতিক সংগ্রামকে ওনারা পাত্তা দিতে চাননি। এখন বাজারী সংবাদমাধ্যম “বামপন্থার” মুখোশ পরতে চায়। সুভাষ বাবুকে “জ়নগনের” নেতা বলে, “ঊচিতবক্তা”, “পার্টি লাইনের বিপরিত ধর্মী” বলে, পার্টী থেকে বিছিন্ন করতে চায় । সত্য সাধু উদ্দেশ্য। ওনার শ্মশান যাত্রায় এতো লোক হয় কি করে? কালীঘাট হেডকোর্টারের, দিল্লী র আর সাদা বাড়ীর যাবতীয় রাজনৈতিক হিসেব তো গুলিয়ে যাচ্ছে। অতহেব নেমে পড়। ওনাকে পার্টী থেকে বিচ্ছিন্ন করো। পার্টির বিরুদ্ধে “হেট” ক্যাম্পেনিং চালু করার এই তো সুযোগ। ওনার ব্যাক্তি জীবনে জনদরদী চরিত্র, জনকল্যানকামী সদিচ্ছার নানান প্রয়াস কে পার্টির আদর্শ থেকে পৃথক করতে হবে । জো হুজুর দিদি। অথচ প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তে ব্যাক্তি সুভাষ থেকে কমরেড সুভাষ চক্রবর্তীর ছাত্র আন্দোলনে, শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামে , কমিউণিষ্ট পার্টি, মার্কসবাদ, লেনিনবাদ এর দর্শনে সমৃদ্ধ চিন্তা, চেতনা বিকাশের তীক্ষ্ণতা কে পরিলক্ষিত করার প্রয়াস কোথাও নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই নেই। একজন প্রকৃত কমিউনিষ্ট হলেই এতো জনসমর্থন পাওয়া যায়। ব্যাতিক্রমী ছিলেন না কমরেড রতণলাল ব্রাম্মীন, কমরেড পি সুন্দরাইয়া, কমরেড মুজফফর আহমেদ এবং আরো অনেকেই । সাংবাদিকতার স্বাধীনতার নির্লজ্জ অপব্যাবহার । মেকি বামপন্থার মুখোশ পরে বেশী দিন বামপন্থী হওয়া যায় না। মজুরশ্রেনী স্বার্থবিরোধী, পূজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যাবস্থার সাথে গোপনে সমঝোতা , স্বার্থান্বেষী মানষিকতা থাকলে, সেই মুখোশ খুলে, কদর্য রুপ বেরিয়ে পড়বেই। আসলে অবাক হবার কিছু নেই। এদের তো কাজই এটা। কমিউনিষ্ট পার্টির এবং তার সদস্য দের নজর বন্দি করে রাখার। অন্য সব রাজনৈতিক দল এর আন্ত- সাঙ্ঘঠনিক অবস্থা দেখার দরকার নেই, কারণ এনারা তো শ্রেনী সমঝোতার রাস্তায় চলেন। এদের নিয়ে অতো ভয় নেই। এদের বলতে এই বাজারী প্রচার মাধ্যমদের ওপর আঙ্কেল শ্যাম দের কড়া নির্দেশ। এক্কেবারে ফেউ হয়ে লেগে থাকো কমিউনিষ্ট পার্টির সভ্যদের পেছনে। সাথে আছে এদের মদতদাতা “মেকি” , “সজ্জন” এমনকি তথাকথিত উগ্র বামপন্থীরাও। কথা, বার্তায়, আচার, আচরনে আতলামি তে ভরপূর। এনাদের আতলামী ছাড়া বাজারে এনাদের নাকি market value কমে যাবে। কমিউনিষ্ঠ বিদ্বেষ , এটাই তো হালের ফ্যাশন। এই ফ্যাশণ টাকে প্রচারের যাবতিয় দ্বায়-দ্বায়ীত্ব এনাদের হাতেই । এনাদের একটাই স্লোগান “তবু আমি আঁতেল হবো, এটাই আমার আম্বিশন”, লোকদেখানো সেই আম্বিশন গ্রহণ না করলে তো এনাদের ‘সেল ভ্যালু” কমে যাবে। সেটা এনারা বিলক্ষণ জানেন বোধহয়। পার্টির আভ্যন্তরের কি চলছে, সবসময় তা জানার জন্যে ডিগবাজী চলছে। কত দরদ, কুমিরাশ্রু, দরদে এক্কেবারে প্রান উথলে উঠছে। ইসসস, সুভাষ কে পার্টি যোগ্য সন্মান দিলো না। যেমন এখন জ্যোতি বাবু কে বলছেন। ওনার নাকি আশীর্বাদ পুষ্ঠ সুভাষ । এই জ্যোতি বাবু এখন এনাদের কাছে ভগবান বা তার উর্ধেও কিছু। অথচ এদেরই ভাষায় একসময় তে তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী শাসক। ঠিক ওনাকেও পার্টি থেকে আলাদা করার চেষ্টা। ত্রিপুরার একজন সদস্য অপসারিত হবার পর, যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছিলো, ফুলের স্তবক নিয়ে তাকে সাদর আমন্ত্রণ, রবিন্দ্রসংগীত, ইত্যাদি। সোমনাথ চ্যাটার্জি সদস্য পদ থেকে অপসারিত হবার পর, প্রচারমাধ্যমের কি দরদ। এমন ভাবে ওনার জন্মদিন পালন ইত্যাদি। বড় বড় নেতা- নেত্রী এক্কেবারে হাজির, শুভেচ্ছা, ফুলের স্তবক নিয়ে, যেন এটা ওনার প্রথম জন্মদিন। সেই একই প্রয়াস, পার্টি থেকে বিছিন্ন করার। ২০০১ সাল, নির্বাচনের পর এনাদের ভির্মি খাবার জোগাড়। এ কি হয়ে গেলো। কিন্ত তাতেও ওনাদের স্বস্তি নেই। চললো প্রচার, ব্র্যান্ড বুদ্ধ। প্রয়াস, সেই বুদ্ধবাবু ইমেজ টাকে আলাদা করার, পার্টি থেকে।
শুনে রাখুন আপনাদের তৈরি বুদ্ধিজীবি , সুশীল সমাজ বা সজ্জন গোষ্টির বাইরেও একটা বুদ্ধিজীবিরা আছেন। যাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকিয়ে যায়নি । যাদের পেটে যতটুকু বিদ্যে আছে , তাই দিয়ে তাঁরা সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ, যারা তাদের নিজ বিচার-বুদ্ধি বাজারের কাছে বিকিয়ে দেয়নি । আর পার্টির জন্যে আপনাদের অত দরদ দরকার নেই। অন্য পার্টির মতন অত নেতা-নেত্রীর সমাগম কমিউনিস্ট পার্টির দরকার নেই। এখানে সমষ্টিগত ভাবে কাজ , চিন্তাভাবনা এবং আলাপ আলোচনা করা হয়। সে শাখা থেকে ওপরের স্তর অবধি। এখানে সবাই দ্বায়িত্ব ভাগ করে নেয়। এখানে সবার মধ্যে বন্ধুত্ব, ভাতৃত্বের সম্পর্ক। এখানে সবাই সবাই কে কমরেড বলে। তার অর্থ সাথী। শ্রমজীবিদের সাথে সংগ্রামী আন্দোলনের সাথী। এটা বাজারী প্রচারমাধ্যম জেনে রাখুন।। ইতিহাস প্রমান করে যে এরকমই মেকী বামপন্থার মুখোশ পরেছিলেন হিটলার। জার্মান দেশের শ্রমজীবি, সর্বসাধারণের কাছে, নিজের তৈরি প্রচারমাধ্যমের “যাদু” তে নিজেকে জাতীয় পরিত্রাতা , শ্রমজ়ীবি সর্বসাধারনের বন্ধু হিসেবে নিজেকে উপস্থীত করেছিলেন। সেই মেকি বামপন্থার মুখোশ পরে মানুষকে সাময়িক বিভ্রান্ত করেন হিটলার এবং মানুষকে এই ওপিনিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং এর শিকার বানান। পরে মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতে হিটলার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। মানুষ সচেতন হয়ে শাস্তি দেন মুসোলিনি কেও । ভারত চিন যুদ্ধের সময়তেও দেশের মার্কসবাদী কমিউনিস্টদের, সংবাদমাধ্যম এবং তৎকালীন কংগ্রেস জনমত তৈরি করে , কাঠগড়ায় দাড় করায়। ভারতীয় মার্কসবাদী কমিউনিস্টদের তখন বলা হতো চিনের দালাল বা পরবর্তিকালে পাকিস্তানের দালাল। সাথে ইন্ধন যুগিয়েছিলো সংশোধনবাদী দক্ষিন পন্থী কমিউনিষ্টরা।
দিক-ভ্রান্ত করার প্রয়াস
পুজিবাদী বিশ্বায়ন বা সাম্রাজ্যবাদী শাসক গোষ্ঠির মূল দর্শন হলো মুনাফা, আরো লাভ। সেই লাভ করার বিজয় রথ তাদের চালিয়ে নিয়ে যেতেই হবে। সে করেই হোক। যেকোনো দেশের শ্রমজীবি, মজুর শ্রেনী এই পূজিবাদী ব্যাবস্থাতে সবথেকে অর্থনৈতিক স্তরে নিষ্পেসিত , মারাত্মক রকম শোষিত। কিন্ত সেই লাভের ফানুস ফোলাবার জন্যে দরকার এই নীচু শ্রেনীর মানুষের ওপর আরো নীপিড়ন। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন এর এই মূল দর্শন কে প্রচার করার জন্যে দরকার তাই নানান সংবাদমাধ্যম, প্রচার, প্রীন্ট মিডিয়া, দূরদর্শন, ইন্টারনেট, ব্লগ ইত্যাদি। উৎপাদন উপায়ের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো হয়, সাথে ঘটানো হয় তথ্য -প্রযুক্তিতে মারাত্মক বা একভাবে বলতে গেলে “ধ্বংসাত্বক” অগ্রগতি। ধ্বংসাত্বক কেন? কারণ এই তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটানো হয়, পূজিবাদী অর্থনীতির অভ্যন্তরে অবস্থীত সঙ্কট থেকে মুক্তি পাবার জন্যে। এই অগ্রগতি সৃজনশীল কখনই নয়। কারন তা ব্যাবহারিত হয় আরো তীব্র শোষন এর তাগিদে। আরো মুনাফার তাগিদে। এই মুনাফার করার রথ স্তব্ধ হয়ে গেলে, পূজিবাদী ব্যবস্থার সাথে তার মালিকবৃন্দের পতন ও ধ্বংস অবধারিত। এই তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটাতে গিয়ে এবং ঘটাবার পর, চলে প্রকৃতি যার এক অংশ মানুষ, তার ওপর চলে নির্মম শোষন। প্রকৃতির সম্পদ গুলিকে নির্দয় ভাবে নিংড়ে নিয়ে তাকে পরিবর্তন করা হয় ডলারে। প্রাকৃতিক নিয়ম বা ব্যাবস্থা নানান দিক দিয়ে সঙ্কটে পড়ে এই ভারসাম্যহীন শোষণে । প্রাকৃতিক নিয়ম গুলি বিগড়ে যায়। চলতে থাকে মারাত্মক রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের মুল দর্শন মুনাফা এবং আরও মুনাফা কে তাই সুনিশ্চিত করার জন্যে অবলম্বন করা হয় উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্য উন্নত ও শক্তিশালী প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা যে কোনো দেশের সীমানা মানে না, লগ্নি পূজির অবাধ চলাচলের সাথে এই প্রচারমাধ্যমের অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অবাধ চলাচলের তাই দরকার হয়ে পড়ে, তা সে ছাপানো নিউজ প্রিন্ট হোক বা ইন্টারনেট , ব্লগ বা টিভি চ্যানেল গুলি। এই মাধ্যম গুলির ঘাড়ে দেওয়া থাকে সবরকমই গুরুদ্বায়িত্ব। তা সে যেকোনো রাজনৈতিক বিষয়ে ওপিনিয়ান তৈরি করে মানুষের সামনে পরিবেশন করা অথবা নানান বস্তুসামগ্রী বিপননের তাগিদে বিজ্ঞ্যাপন(কুরুচিকর হলে আরো ভালো-- চিন্তা নেই তার জন্যে মুখ খুলে বসে আছে সহায়ক বহুজাতিক এয়াড এজেন্সী) মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মোহ সৃষ্ঠি করা অথবা চরম কুরুচিকর , হিংস্র বা ইতিহাস বিকৃত করে সাম্রাজ্যবাদী (মার্কিন দেবদূত বা এয়াকসান হিরো ইত্যাদি) আমেরিকার প্রয়াসে “শয়তান “ কমিউনিষ্ট নিধনের গল্পাকারে চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের মনের সুন্দর প্রাকৃতিক গঠন কে স-মূলে ধ্বংস করা।, মানুষকে বিভ্রান্ত করা। নব্য- গোয়েবেলসীয় কায়দায় মানুষের হৃদয়ে , মস্তিষ্কে, চিন্তায়, মননে তখন গেথে দেবার আপ্রান চেষ্টা চলে যে শয়তান রাষ্ট্র বা কমিউনিস্ট রাস্ট্র কে দমন করার জন্যে এবং সারা বিশ্বে “গনতন্ত্র(?)” বিস্তারের জন্যে মার্কিন প্রভুরা সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আছেন। কিন্তু তার ফলে সমাজের সর্বস্তর ছেয়ে ফেলে জঘন্য দূর্নীতি, অনায়াসে খুনোখুনি, যৌনতা ইত্যাদি মানুষের অন্ধকারতম পাপাচারগুলি। ইদানিং কালে এই সব বিজ্ঞ্যাপনে কিন্ত দেখা যায় এক অদ্ভূত বিভেদাকারী বা সমাজ জীবনে নিজেদের মধ্যে হিংস্র, স্বার্থপরতা অবলম্বন করার জন্যে দ্যার্থহীন আবেদন। আগে যেমন বিজ্ঞ্যাপন গুলি তে দেখা যেত সাধারন মানুষের দ্বারা ব্যাবহৃত পন্যসামগ্রী যথা লন্ঠন, ঝাড়ু, লুংগি, গেঞ্জী ইত্যাদি। আজকাল অবশ্য বিজ্ঞ্যাপনী মানসিকতা গরিব বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত্ব ব্যাবহার্য্য পন্য সামগ্রী পরিত্যাগ করেছে। এখন টি ভি কিনতে হবে। যেখানে লেখা থাকবে “Neighbors envy, owners pride”। গাড়ী, দামী আসবাব, দামী মোবাইল দামী পোষাক- আসাক আর কি। একটা গাড়ির বিজ্ঞ্যাপন, কোম্পানীর নাম বোধহয় ভোলক্সওয়াগন, গাড়ী আস্তেআস্তে এলো , হোটেল সামনে দাঁড়ানো বেয়ারা যেন হেট হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেন সাধারন এক নির্জীব বস্তু হয়েও গাড়ি টি তার প্রভু বা মালিক। এই হচ্ছে বহুজাতিক ভোগবাদী মানসিকতার নিদর্শন। অঙ্কুরেই বিষ ঢোকানো হচ্ছে। সাথে আছে নারী দেহ প্রদর্শনের যেন এক দূর্নিবার প্রতিযোগিতা। অর্থের লোলুপতা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। এই হচ্ছে পূজিবাদী অর্থনীতির প্রবাহমানতার সাথে একনিষ্ট হয়ে চলা প্রকাশ্য যৌনাচারের ব্যাবসা। নারী জাতির অসন্মান। গরিব মানুষের সীমাবদ্ধতার , দৈনন্দিন জীবনযাপনের যন্ত্রনার তাৎক্ষনিক ঔষধ। তাকে দেহ ব্যাবসায় নামানো। এই অবৈধ ব্যাবসার চিত্র রুপে দেশে দেশে, বিশেষ করে আমাদের দেশের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার এটাও শোনা যায় যে এইসব ওয়েবসাইট কোম্পানী গুলি সদর্পে দিনে -দূপুরে দেহ ব্যাবসার দালাল চক্র হয়ে কোটি কোটি অর্থ লুঠছে। সীমাহীন অর্থলোলুপতা মানুষের মূল্যবোধ , প্রকৃতি সৃষ্ট সংস্কৃতি কোন পথে যাচ্ছে? আর সোপ-সিরিয়াল গুলোর তো কোনো কথাই নেই। রাত নটা বাজলেই বাড়ির গৃহীনি, মেয়ে, বৌদের ভীড় লেগে যায়। আজকাল কি সব সিরিয়াল হয়েছে না, কিঁউকি.........। ইত্যাদি, সব সিরিয়াল গুলোতেই সেই এক পরিবার, বিশাল উচ্চবিত্ত মানসিকতা, বূর্জুয়া মানসিকতার, দর্শনের প্রদর্শন এবং শিক্ষা। একটা অনুষ্ঠানেও অন্তত সাধারণ , গরিব পরিবারের দিন যাপনের, জীবন যাপনের কাহিনি পাওয়া যায় না। সবাই কে, এমনকি নিম্ন শ্রেনীর মানুষকেও মোহে আটকে রাখা হয়। আর তার সাথে থাকে পালা করে গুরূ-- শিক্ষা বর্ষণের ২৪/৭ এর সমাপ্তিহীন ডু লুপ। অমুক বাবা এই বলেছেন, তমুক বাবা এই ওষুধ বাতলেছেন, অমুক বাবা তমুক অসুখ হলে অমুখ ব্যায়ম বাতলেছেন। চলতেই থাকে, বেদ, উপনিষদ কে নিয়ে মার্কেটিং। এই বাবা বাহিনীর চারিদিকে ঘিরে থাকে রইস ঘরানার স্ত্রী - পুরুষ দের। লক্ষ্য লক্ষ্য, কোটি কোটি টাকা দান, ডোনেশন। বিজ্ঞ্যান যেন মরে গেছে। কোনো বাবা আবার শোনা যায় রাজনীতি তে দাঁড়াবে। বাঃ সবই এই প্রচারমাধ্যমের কৃপা।
পূঁজিবাদী বিশ্বায়নের এই মুনাফালোলুপতা বা অর্থলোলুপতা এক প্রবল জোয়ার সৃষ্টি করে দেশে দেশে আরো চাপ সৃষ্টি করছে তাদের পন্যের বাজারের চাহিদা এবং বিক্রয় আরো সুনির্দিষ্ট করার জন্যে । এরো আবার প্রধান ভূমিকা, রাস্ট্রসমূহের ভ্রান্ত নীতির এবং রাষ্ট্রের আর্থনৈতিক শক্তির অপব্যাবহার কারি প্রচন্ড প্রতাপশালী সংবাদমাধ্যম । রাস্ট্রের যুবসমাজ বা তরুন সমাজ বা ছাত্র সমাজের কাছে পরিবেশিত হচ্ছে দামী দামী বৈদ্যুতিন গেজেট, সামগ্রী। আই-পড, আই ফোন, ল্যাপ্টপ, এল - সি ডি ইত্যাদি। এই প্রলোভনের ফাঁদে ধরা পড়ে ছাত্র, বেকার সহ চাকরী রত মধ্যবিত্ত মানুষ ও শ্রমজীবি শ্রেনী। ডলার বা টাকা না থাকলে ক্ষতি কি? বহুজাতিক কোম্পানী তো আছেই ক্রেডীট কার্ড এর পরিষেবার জন্যে। কিনুন, আরো কিনুন। লোভ তো থাকবেই। এখন ভোগ করা যাবে না তো কবে? অর্থ শোধ দেবার ক্ষমতা না থাকলে সেই অর্থ পরিষোধের জন্যে আরো ক্রেডিট কার্ডের ব্যাবস্থা করা যাবে। এই করে কারুর কারুর কাছে ১০ থেকে ১২ টা ক্রেডিট কার্ড জমে যায়। এক টা শোধ না করতে পারলে আর এক টা । এই করে সর্বসাধারণকে দেনার দায়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ তো আবার আত্মহত্যার পথ ও বেছে নিয়েছে। আর যাদের ঋণ দেবার ক্ষমতা আছে, তাদের কাছ থেকে নানান ছল, চাতুরি এবং শঠতার আশ্রয় গ্রহণ করে, এগ্রিমেন্টের অর্থের থেকে দ্বিগূন বা তিনগুন পরিমান নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মানুষের বহু কষ্টার্জিত সঞ্চয় রাতারাতি, মানুষের অজান্তে তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করে নিয়ে যাচ্ছে। এই হলো বহুজাতিক ভোগবাদের মহার্ঘতা। বহুজাতিক ভোগবাদ থেকে জন্ম নেয় স্বার্থন্ধতা ও আত্ম-সর্বস্বতা। মানুষ হারিয়ে ফেলে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত মানবিক মূল্যবোধ এবং মানব সমসষ্টিকে এই আরো অর্থলোলুপতা করে দিচ্ছে আরো আরো অমানুবিক, পাশবিক। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন এবং তার সাথে ভোগবাদ প্রযুক্তির এই অসাধারণ প্রগতির যুগে টি ভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি মাধ্যমে যে সংস্কৃতি প্রচার করা হচ্ছে তা হচ্ছে এক অর্থলোভী স্বার্থ সর্বস্ব ও যৌনতা সর্বস্ব সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি মানুষকে তার পরিবার , সমাজ বহির্ভূত জীবে পরিবর্তন করছে। তার ভোগ-লালসা মেটাবার জন্যে মানুষ উদয়-অস্ত পরিশ্রম করছে। তার চাকরি ক্ষেত্রে এবং বহু বি পি ও গুলিতে তাকে মগজধোলাই হয় যে সে একজন সমাজের এলিট শ্রেণী তে পড়ে এবং তাই সে সমাজ কে ভিন্ন হিসেবে, নিজের থেকে আলাদা হিসেবে দেখতে শেখে।
পুজিবাদী ভোগবাদী দর্শনের পরিনাম খুন, জখম, যত্রতত্র বলাৎকার,সব কিছুর পন্যায়ন ইত্যাদি । এই অবক্ষয়ী সংস্কৃতি মানবজাতির প্রগতির পথে, জীবনের প্রকৃতিক সুস্থ্য,সবল সংগ্রামের পথে এক দারূন বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে লড়াই কেবলমাত্র আর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, এই সংগ্রাম কে বিকশিত করতে হয় তাই সাংস্কৃতিক স্তরেও, যাতে প্রকৃতির নিয়মে তৈরি হওয়া সমাজের যা কিছু সুন্দর, সুস্থ্য, স্বাভাবিক এবং মানবিকতা যাতে ধ্বংস না হয়ে যায়। এই সাংস্কৃতিক সংগ্রাম কে বিকশিত করতে হবে নানান গনতন্ত্র প্রিয় মানুষ, ছাত্র, যুব সমাজ কে এবং শ্রমজীবি শ্রেনী কে সঙ্ঘঠিত করে, যাতে একটি সুন্দর , হিংসাহীন, আপসহীন সমাজব্যাবস্থা নির্মান করা যেতে পারে। এই সমাজব্যাবস্থা তৈরির দ্বায়িত্ব সাধারণ মানুষকেই নিতে হবে এবং ইতিহাস থেকে প্রমানিত যে বর্তমান সমাজে মানুষের এই চেতনার বিকাশ ঘটানোর দ্বায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্তরে এই সুন্দর, নির্মল এবং হিংসাহীন সমাজ ব্যাবস্থা গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে নীতি আদর্শে সঙ্ঘঠিত করার দ্বায়িত্ব কমিউনিষ্ট দেরই নিতে হয়।
প্রচারমাধ্যম ও এন জি ও দের ভূমিকা
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রধান হাতিয়ার তাই কমিউনিষ্ট এবং শান্তিকামী গনসংঘঠন গুলি র বিরুদ্ধে ‘ঘৃণাজর্জ্রিত প্রচার-অভিযান ’ জারি রাখা এবং এর জন্যে খোলা হয়েছে দেশী - বিদেশী প্রচুর প্রচারমাধ্যমে, চ্যানেল, ওয়েবসাইট, ব্লগ ইত্যাদি। বিশ্বায়নের মানবিক মুখ বা “Globalization with a Human Face” বা “Millennium Goal “ এর দর্শন প্রচার করতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতন জন্ম নিচ্ছে এক গুচ্ছ এন জি ও। এদের কাজই হচ্ছে, তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ নীপিড়িত, বিশ্বায়নের দ্বারা শোষিত শ্রেনীর ক্রোধ প্রশমণ করা এবং শ্রেণী সংগ্রাম ও বিক্ষোভ হতে এদের বিমুখ ও ভ্রান্ত করা। এরা দ্বায়িত্ব সহকারে প্রচার করছে যে মানুষের দুঃখ্য, কষ্ট প্রশমন করতে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রবক্তারা কতোটা উদগ্রীব এবং তাই অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সংগ্রামে গিয়ে কোনো লাভ নেই । মানুষের কষ্ট , দুঃখ্য লাঘব করতে পারে একমাত্র এই এন জি ও গুলি। বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থা (উজ্জ্বল উদাহারণ হিসেবে বিল গেটস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট) তাদের শোষিত লাভ্যংশের একটি ছোট অংশ এই এন জি ও মারফত কিছু -মিছু খরচা করে প্রমাণ করতে চাইছে যে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের ত্বত্ত্ব কতটা মহার্ঘ এবং তাদের সৃষ্ট প্রচার মাধ্যম কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ্য। শ্রেনী বিভক্ত সমাজে কেউ শ্রেনী নিরপেক্ষ্য নয়। এই নিরপেক্ষ্যতার মুখোশের আড়ালে এই “স্বাধীন” প্রচারমাধ্যম সাথে এন জি ও গুলি অন্তরিক্ষে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে এবং প্রভুত সম্পত্তি লুন্ঠন করছে । শ্রমজীবি সর্বসাধারণকে তাদের শ্রেনী সংগ্রাম থেকে বিমূখ করার প্রচেষ্টা। এই “স্বাধীন” ও “নিরপেক্ষ্য” প্রচারমাধ্যমের আরেকটি কাজ হলো নানান দেশের আভ্যন্তরীন রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় নাক গলানো। সম্প্রতি চিনের সিংজিয়াং প্রদেশে হান এবং উইঘুর সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দাতা হিসেবে এই প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা মারাত্মক রকমের গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ওনাদের দেশের একটি তথাকথিত “গনতান্ত্রীক” সংস্থা (NED National Endowment for Democracy) মাধ্যমে দেশে দেশে “গনতন্ত্র” প্রতিষ্টায় পরিত্রাতা হয়ে অবতরণ করেছেন। এই নেড আমেরিকান উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি রেবিয়া কাদির কে যথেষ্ট উস্কানী এবং মদত দিয়ে সিংজিয়াং প্রদেশ কে চিন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। অন্তরিক্ষে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ যথেষ্ট তৎপর। উদ্দেশ্য একটাই সিংজিয়াং প্রদেশকে আলাদা রাস্ট্র করে , চিন কে অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল করা। এবং কাজাখাস্তান, তুর্ক্মেনিস্থান ক্রিমিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে তেলের দখল কায়েম করা। এই হচ্ছে প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষ্যতার উদাহারণ। ঠিক এরকমই এন জি ও ও প্রচার মাধ্যমের “হেট ক্যাম্পেনের” মাধ্যমে মার্চ ২০০৮ সালে লাসা তে “ক্রিমসন” বিপ্লব, বার্মা- মায়ান্মারে “গেরুয়া বিপ্লব” , যুগোস্লাভিয়ায় ‘বুলডোজার- বিপ্লব’ , জর্জিয়ায় ‘গোলাপ- বিপ্লব’ , ২০০৪-০৫ সালে ইউক্রেনে কমলা বিপ্লব, ২০০৫ সালে কির্গিস্তানে ‘টিউলিপ - বিপ্লব’ ইত্যাদি নামে ষড়যন্ত্র হয়েছে। নানাবিধ প্রতিক্রিয়াশীল , বিভেদকারী রঙ্গীন বিপ্লবকে অন্তরিক্ষে প্ররোচণা দেওয়া এবং সাম্রাজ্যবাদী দর্শনে দেশে গুলির সার্বভৌমত্ব কে ভেঙ্গে দিয়ে আর্থনৈতিক, তেলের, প্রাকৃতিক গ্যাস লুন্ঠন কে ত্বরান্বিত করা। আমাদের দেশ থুড়ি আমাদের রাজ্যে “মোমবাতি” বিপ্লব কেও এর একটা ছোট উদাহারণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। আশির দশকে নিকারাগুয়েতে অর্তেগার সরকারকে ফেলে দেবার উদ্দেশ্যে এবং মার্কিন পুতুল সরকার প্রতিষ্টার উদ্দেশ্য রেগানের ইরান-কন্ট্রা ষড়যন্ত্র প্রায় সকলেরই জানা। বর্তমানে ইরানে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার কে বে-আইনি সাব্যস্ত করতে প্রচারমাধ্যম ঊঠে পড়ে লেগেছে। এই সব বিপ্লবের তাই অনেক পোষাকই নাম দিয়ে বিশ্বের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশে দেশে মার্কিন প্রভূত্ব বজায় রাখাই এই প্রচারমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য।
আমাদের দেশে ও রাজ্যে প্রচারমাধ্যম ও বিজ্ঞাপন
আমাদের দেশে বা পশ্চিমবঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী মদতে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা যে সব পাপাচার- খুন, কমিউনিষ্ট বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চলছে তা প্রত্যন্ত ভিন্ন ঘটনা নয়, এসব দেখে আশ্চর্য্য হবার মনে হয় কোনো কারণ নেই। ইতিহাসের পাতা এবং প্রকৃত তথ্য অনুধাবন করলে জানা যায় যে কমিউনিষ্ট দের হত্যা করার লিষ্ট তৈরি করা হয়েছিলো আগেও, হিটলার এবং তাঁর প্রচারসচিব গোয়াবেলস এই কার্য্যে বিপুল পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। ব্রিটিশ দ্বীপপূঞ্জে ওনার তথাকথিত প্রস্তাবিত এবং কল্পিত “গেস্টাপো” রাজ্য তার সাক্ষ্য বহন করে। কমিউনিষ্ট দের হত্যা করা জন্যে লিস্ট তৈরি করা হয়েছিলো। শুধু জনমত তৈরি করে । সত্য মহার্ঘ শিল্প। জনমত তৈরি করার। কত মানুষেরই উপকারে না লেগেছিলো। কমিঊনিস্ট নিধন যজ্ঞ শুরু হয়েছিলো মানুষকে ভ্রান্ত করে ক্ষেপিয়ে এবং পরবর্তি কালে আক্রমন নেমে এসেছিলো প্রগতিশীল, সৃজনশীল, যুক্তিবাদী , ত্বাত্তিক এবং সাধারণ শান্তি কামী মানুষের ওপর ও। বাদ যায় নি সংবাদমাধ্যম ও। সংবাদমাধ্যমের এই স্বাধীনতা হরণ আমাদের দেশে ও নতুন নয়। আনন্দবাবুদের ও জানার কথা যে একসময় ৭২ থেকে ৭৭ এর জরুরি অবস্থান কালে, তাদের সংস্থার কর্মকর্তাদের ও হাজত বাস করতে হয়েছিলো। সেই সময় তো সব সংবাদমাধ্যম কে , পরের দিনের খবর এর প্রীন্ট বা বিষয়বস্তু রাইটার্স ছুইয়ে আনতে হতো। ইংরাজি তে যাকে বলে “Vetting”। ওনারা ভোলেননি। কারণ মানুষকে ভোলাবার “সাধু “ দ্বায়ীত্ব নিয়ে বাজারে নামলেও, ওনাদের তো পেছনে আছে বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। উৎস বৃহৎ কর্পোরেট মহল এর বিপূল পূঁজি । তাদের সাথে মানূষ পারবে কিভাবে ? তাই ওনাদের তাৎক্ষনিক দর্শন, সমকালীন, সময়োপযোগী ঘটনাতে মন নিবিষ্ঠ রাখতে হবে, না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে। ওনাদের সাংবাদিক যখন মাওবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তখন ওনারা চুপ থাকেন। কারণ পেছণে আছেন ওনাদের ব্রান্ড মিডিয়ামেড “সর্বেশ্বরী”। খেপে গেলেই চাকরি যাবে। বূর্জুয়া-জমিদার শ্রেণীর বেতনভোগী সেবাদাস কলমচীদের চাকরী যাবে। বেচারা রেলদপ্তরের অফিসার টির করুণ দশা নিশ্চয় এনাদের মনে থাকার কথা। আনন্দবাবু দের আনন্দ চিরকালের জন্যে ঘুচে যাবে। সাংবাদীকতার মতন একটী সাধু পেশার কি অবমূল্যায়ন! স্বাধীনতার আগেও সর্বশ্রেনী মানুষের ব্যাপক দেশ স্বাধীন করার স্পৃহা সাথে অর্থনৈতিক সংগ্রামকে ওনারা পাত্তা দিতে চাননি। এখন বাজারী সংবাদমাধ্যম “বামপন্থার” মুখোশ পরতে চায়। সুভাষ বাবুকে “জ়নগনের” নেতা বলে, “ঊচিতবক্তা”, “পার্টি লাইনের বিপরিত ধর্মী” বলে, পার্টী থেকে বিছিন্ন করতে চায় । সত্য সাধু উদ্দেশ্য। ওনার শ্মশান যাত্রায় এতো লোক হয় কি করে? কালীঘাট হেডকোর্টারের, দিল্লী র আর সাদা বাড়ীর যাবতীয় রাজনৈতিক হিসেব তো গুলিয়ে যাচ্ছে। অতহেব নেমে পড়। ওনাকে পার্টী থেকে বিচ্ছিন্ন করো। পার্টির বিরুদ্ধে “হেট” ক্যাম্পেনিং চালু করার এই তো সুযোগ। ওনার ব্যাক্তি জীবনে জনদরদী চরিত্র, জনকল্যানকামী সদিচ্ছার নানান প্রয়াস কে পার্টির আদর্শ থেকে পৃথক করতে হবে । জো হুজুর দিদি। অথচ প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তে ব্যাক্তি সুভাষ থেকে কমরেড সুভাষ চক্রবর্তীর ছাত্র আন্দোলনে, শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামে , কমিউণিষ্ট পার্টি, মার্কসবাদ, লেনিনবাদ এর দর্শনে সমৃদ্ধ চিন্তা, চেতনা বিকাশের তীক্ষ্ণতা কে পরিলক্ষিত করার প্রয়াস কোথাও নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই নেই। একজন প্রকৃত কমিউনিষ্ট হলেই এতো জনসমর্থন পাওয়া যায়। ব্যাতিক্রমী ছিলেন না কমরেড রতণলাল ব্রাম্মীন, কমরেড পি সুন্দরাইয়া, কমরেড মুজফফর আহমেদ এবং আরো অনেকেই । সাংবাদিকতার স্বাধীনতার নির্লজ্জ অপব্যাবহার । মেকি বামপন্থার মুখোশ পরে বেশী দিন বামপন্থী হওয়া যায় না। মজুরশ্রেনী স্বার্থবিরোধী, পূজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যাবস্থার সাথে গোপনে সমঝোতা , স্বার্থান্বেষী মানষিকতা থাকলে, সেই মুখোশ খুলে, কদর্য রুপ বেরিয়ে পড়বেই। আসলে অবাক হবার কিছু নেই। এদের তো কাজই এটা। কমিউনিষ্ট পার্টির এবং তার সদস্য দের নজর বন্দি করে রাখার। অন্য সব রাজনৈতিক দল এর আন্ত- সাঙ্ঘঠনিক অবস্থা দেখার দরকার নেই, কারণ এনারা তো শ্রেনী সমঝোতার রাস্তায় চলেন। এদের নিয়ে অতো ভয় নেই। এদের বলতে এই বাজারী প্রচার মাধ্যমদের ওপর আঙ্কেল শ্যাম দের কড়া নির্দেশ। এক্কেবারে ফেউ হয়ে লেগে থাকো কমিউনিষ্ট পার্টির সভ্যদের পেছনে। সাথে আছে এদের মদতদাতা “মেকি” , “সজ্জন” এমনকি তথাকথিত উগ্র বামপন্থীরাও। কথা, বার্তায়, আচার, আচরনে আতলামি তে ভরপূর। এনাদের আতলামী ছাড়া বাজারে এনাদের নাকি market value কমে যাবে। কমিউনিষ্ঠ বিদ্বেষ , এটাই তো হালের ফ্যাশন। এই ফ্যাশণ টাকে প্রচারের যাবতিয় দ্বায়-দ্বায়ীত্ব এনাদের হাতেই । এনাদের একটাই স্লোগান “তবু আমি আঁতেল হবো, এটাই আমার আম্বিশন”, লোকদেখানো সেই আম্বিশন গ্রহণ না করলে তো এনাদের ‘সেল ভ্যালু” কমে যাবে। সেটা এনারা বিলক্ষণ জানেন বোধহয়। পার্টির আভ্যন্তরের কি চলছে, সবসময় তা জানার জন্যে ডিগবাজী চলছে। কত দরদ, কুমিরাশ্রু, দরদে এক্কেবারে প্রান উথলে উঠছে। ইসসস, সুভাষ কে পার্টি যোগ্য সন্মান দিলো না। যেমন এখন জ্যোতি বাবু কে বলছেন। ওনার নাকি আশীর্বাদ পুষ্ঠ সুভাষ । এই জ্যোতি বাবু এখন এনাদের কাছে ভগবান বা তার উর্ধেও কিছু। অথচ এদেরই ভাষায় একসময় তে তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী শাসক। ঠিক ওনাকেও পার্টি থেকে আলাদা করার চেষ্টা। ত্রিপুরার একজন সদস্য অপসারিত হবার পর, যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছিলো, ফুলের স্তবক নিয়ে তাকে সাদর আমন্ত্রণ, রবিন্দ্রসংগীত, ইত্যাদি। সোমনাথ চ্যাটার্জি সদস্য পদ থেকে অপসারিত হবার পর, প্রচারমাধ্যমের কি দরদ। এমন ভাবে ওনার জন্মদিন পালন ইত্যাদি। বড় বড় নেতা- নেত্রী এক্কেবারে হাজির, শুভেচ্ছা, ফুলের স্তবক নিয়ে, যেন এটা ওনার প্রথম জন্মদিন। সেই একই প্রয়াস, পার্টি থেকে বিছিন্ন করার। ২০০১ সাল, নির্বাচনের পর এনাদের ভির্মি খাবার জোগাড়। এ কি হয়ে গেলো। কিন্ত তাতেও ওনাদের স্বস্তি নেই। চললো প্রচার, ব্র্যান্ড বুদ্ধ। প্রয়াস, সেই বুদ্ধবাবু ইমেজ টাকে আলাদা করার, পার্টি থেকে।
শুনে রাখুন আপনাদের তৈরি বুদ্ধিজীবি , সুশীল সমাজ বা সজ্জন গোষ্টির বাইরেও একটা বুদ্ধিজীবিরা আছেন। যাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকিয়ে যায়নি । যাদের পেটে যতটুকু বিদ্যে আছে , তাই দিয়ে তাঁরা সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ, যারা তাদের নিজ বিচার-বুদ্ধি বাজারের কাছে বিকিয়ে দেয়নি । আর পার্টির জন্যে আপনাদের অত দরদ দরকার নেই। অন্য পার্টির মতন অত নেতা-নেত্রীর সমাগম কমিউনিস্ট পার্টির দরকার নেই। এখানে সমষ্টিগত ভাবে কাজ , চিন্তাভাবনা এবং আলাপ আলোচনা করা হয়। সে শাখা থেকে ওপরের স্তর অবধি। এখানে সবাই দ্বায়িত্ব ভাগ করে নেয়। এখানে সবার মধ্যে বন্ধুত্ব, ভাতৃত্বের সম্পর্ক। এখানে সবাই সবাই কে কমরেড বলে। তার অর্থ সাথী। শ্রমজীবিদের সাথে সংগ্রামী আন্দোলনের সাথী। এটা বাজারী প্রচারমাধ্যম জেনে রাখুন।। ইতিহাস প্রমান করে যে এরকমই মেকী বামপন্থার মুখোশ পরেছিলেন হিটলার। জার্মান দেশের শ্রমজীবি, সর্বসাধারণের কাছে, নিজের তৈরি প্রচারমাধ্যমের “যাদু” তে নিজেকে জাতীয় পরিত্রাতা , শ্রমজ়ীবি সর্বসাধারনের বন্ধু হিসেবে নিজেকে উপস্থীত করেছিলেন। সেই মেকি বামপন্থার মুখোশ পরে মানুষকে সাময়িক বিভ্রান্ত করেন হিটলার এবং মানুষকে এই ওপিনিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং এর শিকার বানান। পরে মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতে হিটলার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। মানুষ সচেতন হয়ে শাস্তি দেন মুসোলিনি কেও । ভারত চিন যুদ্ধের সময়তেও দেশের মার্কসবাদী কমিউনিস্টদের, সংবাদমাধ্যম এবং তৎকালীন কংগ্রেস জনমত তৈরি করে , কাঠগড়ায় দাড় করায়। ভারতীয় মার্কসবাদী কমিউনিস্টদের তখন বলা হতো চিনের দালাল বা পরবর্তিকালে পাকিস্তানের দালাল। সাথে ইন্ধন যুগিয়েছিলো সংশোধনবাদী দক্ষিন পন্থী কমিউনিষ্টরা।
দিক-ভ্রান্ত করার প্রয়াস
পুজিবাদী বিশ্বায়ন বা সাম্রাজ্যবাদী শাসক গোষ্ঠির মূল দর্শন হলো মুনাফা, আরো লাভ। সেই লাভ করার বিজয় রথ তাদের চালিয়ে নিয়ে যেতেই হবে। সে করেই হোক। যেকোনো দেশের শ্রমজীবি, মজুর শ্রেনী এই পূজিবাদী ব্যাবস্থাতে সবথেকে অর্থনৈতিক স্তরে নিষ্পেসিত , মারাত্মক রকম শোষিত। কিন্ত সেই লাভের ফানুস ফোলাবার জন্যে দরকার এই নীচু শ্রেনীর মানুষের ওপর আরো নীপিড়ন। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন এর এই মূল দর্শন কে প্রচার করার জন্যে দরকার তাই নানান সংবাদমাধ্যম, প্রচার, প্রীন্ট মিডিয়া, দূরদর্শন, ইন্টারনেট, ব্লগ ইত্যাদি। উৎপাদন উপায়ের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো হয়, সাথে ঘটানো হয় তথ্য -প্রযুক্তিতে মারাত্মক বা একভাবে বলতে গেলে “ধ্বংসাত্বক” অগ্রগতি। ধ্বংসাত্বক কেন? কারণ এই তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটানো হয়, পূজিবাদী অর্থনীতির অভ্যন্তরে অবস্থীত সঙ্কট থেকে মুক্তি পাবার জন্যে। এই অগ্রগতি সৃজনশীল কখনই নয়। কারন তা ব্যাবহারিত হয় আরো তীব্র শোষন এর তাগিদে। আরো মুনাফার তাগিদে। এই মুনাফার করার রথ স্তব্ধ হয়ে গেলে, পূজিবাদী ব্যবস্থার সাথে তার মালিকবৃন্দের পতন ও ধ্বংস অবধারিত। এই তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটাতে গিয়ে এবং ঘটাবার পর, চলে প্রকৃতি যার এক অংশ মানুষ, তার ওপর চলে নির্মম শোষন। প্রকৃতির সম্পদ গুলিকে নির্দয় ভাবে নিংড়ে নিয়ে তাকে পরিবর্তন করা হয় ডলারে। প্রাকৃতিক নিয়ম বা ব্যাবস্থা নানান দিক দিয়ে সঙ্কটে পড়ে এই ভারসাম্যহীন শোষণে । প্রাকৃতিক নিয়ম গুলি বিগড়ে যায়। চলতে থাকে মারাত্মক রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের মুল দর্শন মুনাফা এবং আরও মুনাফা কে তাই সুনিশ্চিত করার জন্যে অবলম্বন করা হয় উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্য উন্নত ও শক্তিশালী প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা যে কোনো দেশের সীমানা মানে না, লগ্নি পূজির অবাধ চলাচলের সাথে এই প্রচারমাধ্যমের অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অবাধ চলাচলের তাই দরকার হয়ে পড়ে, তা সে ছাপানো নিউজ প্রিন্ট হোক বা ইন্টারনেট , ব্লগ বা টিভি চ্যানেল গুলি। এই মাধ্যম গুলির ঘাড়ে দেওয়া থাকে সবরকমই গুরুদ্বায়িত্ব। তা সে যেকোনো রাজনৈতিক বিষয়ে ওপিনিয়ান তৈরি করে মানুষের সামনে পরিবেশন করা অথবা নানান বস্তুসামগ্রী বিপননের তাগিদে বিজ্ঞ্যাপন(কুরুচিকর হলে আরো ভালো-- চিন্তা নেই তার জন্যে মুখ খুলে বসে আছে সহায়ক বহুজাতিক এয়াড এজেন্সী) মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মোহ সৃষ্ঠি করা অথবা চরম কুরুচিকর , হিংস্র বা ইতিহাস বিকৃত করে সাম্রাজ্যবাদী (মার্কিন দেবদূত বা এয়াকসান হিরো ইত্যাদি) আমেরিকার প্রয়াসে “শয়তান “ কমিউনিষ্ট নিধনের গল্পাকারে চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের মনের সুন্দর প্রাকৃতিক গঠন কে স-মূলে ধ্বংস করা।, মানুষকে বিভ্রান্ত করা। নব্য- গোয়েবেলসীয় কায়দায় মানুষের হৃদয়ে , মস্তিষ্কে, চিন্তায়, মননে তখন গেথে দেবার আপ্রান চেষ্টা চলে যে শয়তান রাষ্ট্র বা কমিউনিস্ট রাস্ট্র কে দমন করার জন্যে এবং সারা বিশ্বে “গনতন্ত্র(?)” বিস্তারের জন্যে মার্কিন প্রভুরা সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আছেন। কিন্তু তার ফলে সমাজের সর্বস্তর ছেয়ে ফেলে জঘন্য দূর্নীতি, অনায়াসে খুনোখুনি, যৌনতা ইত্যাদি মানুষের অন্ধকারতম পাপাচারগুলি। ইদানিং কালে এই সব বিজ্ঞ্যাপনে কিন্ত দেখা যায় এক অদ্ভূত বিভেদাকারী বা সমাজ জীবনে নিজেদের মধ্যে হিংস্র, স্বার্থপরতা অবলম্বন করার জন্যে দ্যার্থহীন আবেদন। আগে যেমন বিজ্ঞ্যাপন গুলি তে দেখা যেত সাধারন মানুষের দ্বারা ব্যাবহৃত পন্যসামগ্রী যথা লন্ঠন, ঝাড়ু, লুংগি, গেঞ্জী ইত্যাদি। আজকাল অবশ্য বিজ্ঞ্যাপনী মানসিকতা গরিব বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত্ব ব্যাবহার্য্য পন্য সামগ্রী পরিত্যাগ করেছে। এখন টি ভি কিনতে হবে। যেখানে লেখা থাকবে “Neighbors envy, owners pride”। গাড়ী, দামী আসবাব, দামী মোবাইল দামী পোষাক- আসাক আর কি। একটা গাড়ির বিজ্ঞ্যাপন, কোম্পানীর নাম বোধহয় ভোলক্সওয়াগন, গাড়ী আস্তেআস্তে এলো , হোটেল সামনে দাঁড়ানো বেয়ারা যেন হেট হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেন সাধারন এক নির্জীব বস্তু হয়েও গাড়ি টি তার প্রভু বা মালিক। এই হচ্ছে বহুজাতিক ভোগবাদী মানসিকতার নিদর্শন। অঙ্কুরেই বিষ ঢোকানো হচ্ছে। সাথে আছে নারী দেহ প্রদর্শনের যেন এক দূর্নিবার প্রতিযোগিতা। অর্থের লোলুপতা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। এই হচ্ছে পূজিবাদী অর্থনীতির প্রবাহমানতার সাথে একনিষ্ট হয়ে চলা প্রকাশ্য যৌনাচারের ব্যাবসা। নারী জাতির অসন্মান। গরিব মানুষের সীমাবদ্ধতার , দৈনন্দিন জীবনযাপনের যন্ত্রনার তাৎক্ষনিক ঔষধ। তাকে দেহ ব্যাবসায় নামানো। এই অবৈধ ব্যাবসার চিত্র রুপে দেশে দেশে, বিশেষ করে আমাদের দেশের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার এটাও শোনা যায় যে এইসব ওয়েবসাইট কোম্পানী গুলি সদর্পে দিনে -দূপুরে দেহ ব্যাবসার দালাল চক্র হয়ে কোটি কোটি অর্থ লুঠছে। সীমাহীন অর্থলোলুপতা মানুষের মূল্যবোধ , প্রকৃতি সৃষ্ট সংস্কৃতি কোন পথে যাচ্ছে? আর সোপ-সিরিয়াল গুলোর তো কোনো কথাই নেই। রাত নটা বাজলেই বাড়ির গৃহীনি, মেয়ে, বৌদের ভীড় লেগে যায়। আজকাল কি সব সিরিয়াল হয়েছে না, কিঁউকি.........। ইত্যাদি, সব সিরিয়াল গুলোতেই সেই এক পরিবার, বিশাল উচ্চবিত্ত মানসিকতা, বূর্জুয়া মানসিকতার, দর্শনের প্রদর্শন এবং শিক্ষা। একটা অনুষ্ঠানেও অন্তত সাধারণ , গরিব পরিবারের দিন যাপনের, জীবন যাপনের কাহিনি পাওয়া যায় না। সবাই কে, এমনকি নিম্ন শ্রেনীর মানুষকেও মোহে আটকে রাখা হয়। আর তার সাথে থাকে পালা করে গুরূ-- শিক্ষা বর্ষণের ২৪/৭ এর সমাপ্তিহীন ডু লুপ। অমুক বাবা এই বলেছেন, তমুক বাবা এই ওষুধ বাতলেছেন, অমুক বাবা তমুক অসুখ হলে অমুখ ব্যায়ম বাতলেছেন। চলতেই থাকে, বেদ, উপনিষদ কে নিয়ে মার্কেটিং। এই বাবা বাহিনীর চারিদিকে ঘিরে থাকে রইস ঘরানার স্ত্রী - পুরুষ দের। লক্ষ্য লক্ষ্য, কোটি কোটি টাকা দান, ডোনেশন। বিজ্ঞ্যান যেন মরে গেছে। কোনো বাবা আবার শোনা যায় রাজনীতি তে দাঁড়াবে। বাঃ সবই এই প্রচারমাধ্যমের কৃপা।
পূঁজিবাদী বিশ্বায়নের এই মুনাফালোলুপতা বা অর্থলোলুপতা এক প্রবল জোয়ার সৃষ্টি করে দেশে দেশে আরো চাপ সৃষ্টি করছে তাদের পন্যের বাজারের চাহিদা এবং বিক্রয় আরো সুনির্দিষ্ট করার জন্যে । এরো আবার প্রধান ভূমিকা, রাস্ট্রসমূহের ভ্রান্ত নীতির এবং রাষ্ট্রের আর্থনৈতিক শক্তির অপব্যাবহার কারি প্রচন্ড প্রতাপশালী সংবাদমাধ্যম । রাস্ট্রের যুবসমাজ বা তরুন সমাজ বা ছাত্র সমাজের কাছে পরিবেশিত হচ্ছে দামী দামী বৈদ্যুতিন গেজেট, সামগ্রী। আই-পড, আই ফোন, ল্যাপ্টপ, এল - সি ডি ইত্যাদি। এই প্রলোভনের ফাঁদে ধরা পড়ে ছাত্র, বেকার সহ চাকরী রত মধ্যবিত্ত মানুষ ও শ্রমজীবি শ্রেনী। ডলার বা টাকা না থাকলে ক্ষতি কি? বহুজাতিক কোম্পানী তো আছেই ক্রেডীট কার্ড এর পরিষেবার জন্যে। কিনুন, আরো কিনুন। লোভ তো থাকবেই। এখন ভোগ করা যাবে না তো কবে? অর্থ শোধ দেবার ক্ষমতা না থাকলে সেই অর্থ পরিষোধের জন্যে আরো ক্রেডিট কার্ডের ব্যাবস্থা করা যাবে। এই করে কারুর কারুর কাছে ১০ থেকে ১২ টা ক্রেডিট কার্ড জমে যায়। এক টা শোধ না করতে পারলে আর এক টা । এই করে সর্বসাধারণকে দেনার দায়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ তো আবার আত্মহত্যার পথ ও বেছে নিয়েছে। আর যাদের ঋণ দেবার ক্ষমতা আছে, তাদের কাছ থেকে নানান ছল, চাতুরি এবং শঠতার আশ্রয় গ্রহণ করে, এগ্রিমেন্টের অর্থের থেকে দ্বিগূন বা তিনগুন পরিমান নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মানুষের বহু কষ্টার্জিত সঞ্চয় রাতারাতি, মানুষের অজান্তে তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করে নিয়ে যাচ্ছে। এই হলো বহুজাতিক ভোগবাদের মহার্ঘতা। বহুজাতিক ভোগবাদ থেকে জন্ম নেয় স্বার্থন্ধতা ও আত্ম-সর্বস্বতা। মানুষ হারিয়ে ফেলে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত মানবিক মূল্যবোধ এবং মানব সমসষ্টিকে এই আরো অর্থলোলুপতা করে দিচ্ছে আরো আরো অমানুবিক, পাশবিক। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন এবং তার সাথে ভোগবাদ প্রযুক্তির এই অসাধারণ প্রগতির যুগে টি ভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি মাধ্যমে যে সংস্কৃতি প্রচার করা হচ্ছে তা হচ্ছে এক অর্থলোভী স্বার্থ সর্বস্ব ও যৌনতা সর্বস্ব সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি মানুষকে তার পরিবার , সমাজ বহির্ভূত জীবে পরিবর্তন করছে। তার ভোগ-লালসা মেটাবার জন্যে মানুষ উদয়-অস্ত পরিশ্রম করছে। তার চাকরি ক্ষেত্রে এবং বহু বি পি ও গুলিতে তাকে মগজধোলাই হয় যে সে একজন সমাজের এলিট শ্রেণী তে পড়ে এবং তাই সে সমাজ কে ভিন্ন হিসেবে, নিজের থেকে আলাদা হিসেবে দেখতে শেখে।
পুজিবাদী ভোগবাদী দর্শনের পরিনাম খুন, জখম, যত্রতত্র বলাৎকার,সব কিছুর পন্যায়ন ইত্যাদি । এই অবক্ষয়ী সংস্কৃতি মানবজাতির প্রগতির পথে, জীবনের প্রকৃতিক সুস্থ্য,সবল সংগ্রামের পথে এক দারূন বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে লড়াই কেবলমাত্র আর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, এই সংগ্রাম কে বিকশিত করতে হয় তাই সাংস্কৃতিক স্তরেও, যাতে প্রকৃতির নিয়মে তৈরি হওয়া সমাজের যা কিছু সুন্দর, সুস্থ্য, স্বাভাবিক এবং মানবিকতা যাতে ধ্বংস না হয়ে যায়। এই সাংস্কৃতিক সংগ্রাম কে বিকশিত করতে হবে নানান গনতন্ত্র প্রিয় মানুষ, ছাত্র, যুব সমাজ কে এবং শ্রমজীবি শ্রেনী কে সঙ্ঘঠিত করে, যাতে একটি সুন্দর , হিংসাহীন, আপসহীন সমাজব্যাবস্থা নির্মান করা যেতে পারে। এই সমাজব্যাবস্থা তৈরির দ্বায়িত্ব সাধারণ মানুষকেই নিতে হবে এবং ইতিহাস থেকে প্রমানিত যে বর্তমান সমাজে মানুষের এই চেতনার বিকাশ ঘটানোর দ্বায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্তরে এই সুন্দর, নির্মল এবং হিংসাহীন সমাজ ব্যাবস্থা গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে নীতি আদর্শে সঙ্ঘঠিত করার দ্বায়িত্ব কমিউনিষ্ট দেরই নিতে হয়।