Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
Showing posts with label অনামিকা. Show all posts
Showing posts with label অনামিকা. Show all posts

​ও মেয়ে… অবুঝ মেয়ে ~ অনামিকা মিত্র

সেমিনারে কখা ওড়ে, রাশি রাশি ধ্যান ওড়ে।
ও মেয়ে, অবুঝ মেয়ে, জন্মালি কেন রে?

হিসেব জানিস না কি? তোর কী কী প্রাপ্য?
তোর যা গল্প, সে'তো ভ্রুণেই সমাপ্য।

সমাপ্ত নয়? যদি কাহিনিটি গড়ালো…
কেউ হেসে বলবে না … হল এই ঘর আলো

কেউ ডেকে বলল না এলি যদি বাঁচ রে।
বরঞ্চ মেরে ফেলা হোক তোকে আছড়ে!

যদি বেঁচে যাস, নিস যৌবন চিহ্ন
লোভে আর অধিকারে তুই হবি ছিন্ন।

কান্নারা গড়াবেই… আজ থেকে কালকে
পার্ক স্ট্রিট… কামদুনি… কখনও বা শালকে'।

এ'টাই ভাগ্যলিপি, যা লিখেছে কোষ্ঠী।
ছোট্ট ঘটনা… নাকি দ্বন্দ্বের গোষ্ঠী।

মেনে নিতে না পারলে রাষ্ট্রের ভাষ্য…
জ্বলে ওঠ। ক্রোধ হোক ক্রমশ প্রকাশ্য।

দুটি কবিতা ~ সোম

সময়ে অসময়

তোমার সাথে কাটানো সময়
নিতান্ত কম নয়
ভাবিনি সে সময়
অসময় না দুঃসময়
বিশ্বাসের ভাঁজে ভাঁজে
লুকোনো ভালবাসা
উদাসীন পাগলামী
আর স্বপ্ন দেখা
বলিনি তোমাকে
ঠিক কোন সময় ছুঁয়েছো হৃদয়
ভাবনার গভীরতায়
মুছেছো সব সংশয়
মেঘের গায়ের স্বপ্নগুলো
বাড়িয়েছে অনুভূতি
বহু পথ চলতে হবে
প্রশান্তি…সাথে তুমি
বাড়ছে দূরত্ব
অপেক্ষামান সময়ের কারাগারে
যে আমি ছিলাম সবচেয়ে দামী
অবহেলায় তাকেই ঠেলে দিলে দূরে
অজস্র হারানো সময়
নাকি স্বপ্নহীন অসময়?
কল্পনারা স্তব্ধ নাকি অবুঝ?
এ সময় তো ছিল,ফিরে পাওয়ার সে সময়।

 
সবুজ সন্ত্রাস
সন্ত্রাস শুধু রক্ত চায়
রক্ত পেলেই নাকি হবে ক্ষমতার জয়
কিছু ভাঙ্গচুড় আর হরেক রকম খুন
বাড়াও আতঙ্ক দিন-প্রতিদিন
মানুষের বাঁচা মরা থাক আমাদের হাতে
শেষে ভুলোনা যেন সংঘাত লাগিয়ে 'বাম' নামটা নিতে
আমি সাম্রাজ্য চাই আমার,সাথে সিংহাসন
রক্তে লেপো শহর,দিক কেউ কেউ প্রাণ
মানুষ থেকে মানুষে ছড়াক ভয়,তবেই তো হবে আমার জয়
মনে রেখো আমিই সন্ত্রাস অন্য কেউ নয়
সবুজে আজ রক্ত লেগেছে,কালো কালো শুধু ছাপ
বাড়ছে শুধু পাপ আর পাপ,আর সাধারনের অভিশাপ ।

 

বর্ষ বরণ ~ অনামিকা

আজকে নতুন বছর এসেছে,আজই,

আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে রাজি।


গত বছরের স্বপ্নরা গেছে ভেসে,

বাঁচার গল্পে মিশে গেছে সন্দেহ ।

উস্কানি দেওয়া খুনিদের নির্দেশে,

চেনা মুখগুলি হয়ে গেল মৃতদেহ।


মিছে অক্ষরে,শব্দ সাজালো কবি।

গুজব লেখাল মালিকের দেওয়া পেন !

গিটার শোভিত সৌখিন বিপ্লবী,

ধর্মতলায় বিদ্রোহ শেখালেন।


লাশ খুঁজছিল,উৎসুক মৃতভোজী,

ঝলসালো তাই,বোমা গুলি বন্দুক।

আমি আর ভাই,চিতার আগুনে রোজই,

সনাক্ত করি,নিজেদের মরা মুখ।


আগুন খেলছে,নৈরাজ্যের খেলা।

স্কুলে কলেজেও,চেনা কৌশলি ছক!

দেরি হয়ে যাবে,না রুখলে এই বেলা। 

এক্ষুনি তাই,প্রতিরোধ শুরু হোক!



আজকে নতুন বছর এসেছে,আজই,

আমরা আবারও স্বপ্ন দেখতে রাজি !

পেঁয়াজি ~ অনামিকা

পেট্রোলে দাম অবাধে বাড়ছে ডিজেলেরও বাড়ে তাই!
দ্রব্যমূল্য তাতে বাড়ে? ছি ছি! ওকথা বলতে নাই!

সিংগুরে ওরা কেড়েছিল জমি, পেঁয়াজ তাইতো ষাট।
ফেরৎ চাইছি চারশ' একর পেঁয়াজ ভর্তি মাঠ।

ওটা পেয়ে গেলে আগামীকল্য পেঁয়াজ দু'টাকা কিলো!
ভাগ্যিস এই মিথ্যে কথায় পোক্ত জিভটা ছিল।

দিল্লিতে দর আশি হল কেন? সোনিয়া আন্টি জানে।
আমি শুধু রেল। সকাল বিকেল ... শিলা পুঁতি সবখানে!

মনোমোহনের খেলা জানি ঢের, পাকা চুল পাকা ভুরু।
ও কী সামলাবে? এ ইউপিএর এইতো শেষের শুরু!

মাঝে মাঝে জপি যৌথ বাহিনী। "এই ছাড়লাম জোট" ...
এই হুমকি যে ক'বার দিয়েছি, ভুলেই গিয়েছি মোট!

অবশ্য তার পরপরই আমি প্রতিবার গিলি ঢোঁক।
"কিল গেম শো"তে আমি যে নেত্রী ... মানতে আজ্ঞা হোক!

সিবিআই রহস্য ~ অনামিকা

সিবিআই মানে মহান ধাপ্পা, মহা পবিত্র নাম।
ঘুষটুস খেয়ে ওরাই সিদ্ধ করবে মনষ্কাম।*

সাত সাতজন মন্ত্রী হয়েছি। "কেন্দ্র"টি করে আলো।
আমি তবু নই শাসক পক্ষ, দাবী করি জমকালো।

যে "কেন্দ্র" পেটে লাথি মারে রোজ ... যে "কেন্দ্র" ছাপে টাকা ...
যে "কেন্দ্রে" পোষা আছে সিবিআই ... যে "কেন্দ্র" মধুমাখা ...

যে "কেন্দ্র" টু জি, ভাগ বোঝাবুঝি ... আমার পরমারাধ্য ...
সে "কেন্দ্রে" আছি, জেড ক্যাটেগরি ... সবাই মানতে বাধ্য ...

তবু আমি নই "শাসক" পক্ষ! শাসক হচ্ছে বুদ্ধ।
শাসক হবার জন্য আমার যাবতীয় সব যুদ্ধ!

বিদ্বজ্জন খুঁজে বার করে নিবিড় করেছি সখ্য।
রেলকমিটির দই খাক নেপো, জনগন উপলক্ষ্য!

কোরাসে গাইছি ... পরিবর্তন ... অন্য শাসক চাই ...
কেন তা হয়নি, তদন্ত করে বলে দিক সিবিআই।

এখনও কি তুই জীবিত আছিস? কেন আজও বেঁচে? কেন?
সেটা সিবিআই তদন্ত করে বলে দিয়ে যায় যেন!

একটাই ভয় সিবিআই যদি বুঝে ফেলে আমি মেকি!
পাপ তো শুনেছি বাপকে ছাড়েনা! আমাকে সে ছাড়বে কি?


--------------------------------------------
* তাপসী কাণ্ডের সিবিআই ইনস্পেক্টর শ্রীমান পার্থর কথা মনে আছে?

 

মা'র দাবী ~ অনামিকা

আশায় আশায় থাকি, এ ছেলেটা বড় হলে পরে
সংসারে সুরাহা হবে। আমাদের মধ্যবিত্ত বাড়ি।
দিন আনে দিন খায়। তাই এই ছেলের ওপরে
এতটা ভরসা করি। ছেলে বড় হোক তাড়াতাড়ি।

বিনা মেঘে বাজ যেন নেমে এল হতচ্ছাড়া দিনে।
প্রত্যয় করিনি আমি। আমার উঠোনে ভাসে ভেলা।
এইতো কলেজে গেল, পাড়ার দোকানে খাতা কিনে।
কি বলছ? সে নাকি নেই? খবর দিয়েছে কালবেলা।

ভাত বেড়ে বসে আছি, সেই স্বপ্ন ফেরেনি এখনও।
ওরা বলে দাগ আছে, দংশনের দাগ অবিকল
চোখে দেখ জল নেই। এই বুকে জল নেই কোনও।
সাপটাকে না মারলে, পৃথিবীতে নামবে না জল।

হেন্তালের লাঠি নেই। আমি নই চাঁদ সদাগর।
বুক ভরা শোক আর ঘৃণা আছে সাগরপ্রমাণ।
শিল্প নয় কৃষি নয়, নয় সপ্তডিঙা মধুকর!
আমি তো মা। আমি চাই তোরা ওই সাপ মেরে আন।

নেপথ্য ডায়ালগ ~ অনামিকা

ইনি---

লালুদা'র রেখে যাওয়া প্রকল্পগুচ্ছ
পাথরে পুঁতছি আর নাচাচ্ছি পুচ্ছ।
পেট্রোলে ফের দাম বাড়ালে যে টাকা তিন,
সেটা যে খারাপ খুব, বলেছি কি কোনও দিন?
লিটার কিনতে টাকা লেগে যাবে ষাটটা।
জনগণ মানছে না এইসব ঠাট্টা!
এলে না প্রণবদাদা, ছিল কথা দেয়া না!
"বি টিম"রা কবে থেকে এত হল সেয়ানা?

তিনি---
আদরের বোকা খুকি শুধু শুধু রাগলি!
অধীর না হলে পরে কে জেতাতো, পাগলি?
এই যে বলছি এত,পৌঁছেছি এ্যাদ্দুর,
পারতাম এত কিছু, না হলে জঙ্গীপুর?

ইনি ---
ন্যাকা ন্যাকা কথাগুলি অন্যকে বুঝিয়ো।
সব বুঝি তহলকা ... টেলিকম ... টু জি ও।
নাশকতা! ফুটো করে দিল হেলিকাপটার,
মুন্ডু চিবোবো ওই অধীরের বাপটার!
সব খেলা জানি আমি। ধর্মের জিগিরে,
দখল করব আমি ও সাগরদীঘিরে!

এনডিএ জানে আমি কোনও কিছু মানিনি।
এই আছি এই নেই ... বড় অভিমানিনী!
সেই আমি টুঁ অবধি করছিনা শব্দ।
কেননা অনেক বড় আমার আরব্ধ।
দুর্নীতি হলে হোক। প্রতিবাদ চাইনি।
বাংলাকে একা খাব, আমি একা ডাইনি!

তিনি---
মনোমোহনের গেছে ছিরকুটে দন্ত।
সুপ্রিম কোর্ট না কি করাবে তদন্ত!
এনডিএ ইউপিএ উঠেছিস দু'টোতে।
সব নৌকোই ফেঁসে বড় বড় ফুটোতে।
দু'হাজার এক থেকে দু'হাজার দশ তক
কী বেরোবে ভেবে ভেবে ফেটে যায় মস্তক!

ইনি---
কী ভাবে সিএম হব, আমি নিজে? তা ছাড়া,
উপোসী রয়েছে সব ছারপোকা বাছারা!
মিডিয়াতে তড়পাই। বাস্তবে পারি না।
নেই গতি, তাই সতী! ইউপিএ ছাড়ি না।

তিনি---
ছোটো হলে ছোটোখাটো লাথিটাথি প্রাপ্য।
ভাবিস না এ'কাহিনি এখনই সমাপ্য!

ইনি---
ভান করি চটবার। তুমি কেন চটে যাও?
যাই হোক ... জোট চাই। ভোট এলে জোটে নাও!

তিনি---
তাই বল! পথে আয় ... করিস না ফোঁসফোঁস।
চোখ মোছ। আয় তু ... তু... এসে পদতলে বোস!

মা ... মাটি ... ফানুস ... ~ অনামিকা

বীজের থেকে গাছ জন্মায়, এ'তথ্য খুব শিক্ষণীয়।
সিঙ্গুরে বীজ পুঁতলে, এবার সাঁকরাইলের বৃক্ষ নিয়ো!

কোথায় জমির দশ শতাংশ ফেরত দেবার ফেরেব্বাজি?
পার ফ্যামিলি একটা করে চাকরি সবাই চাইছে আজই!

আসল তথ্য জানত সবাই, বক্তৃতা সব ভাঁওতা বেজায়।
মিথ্যে কথার চ্যাম্পিয়নের কুম্ভীরাশ্রু মঞ্চ ভেজায়।

আম বাংলায় সবাই চেনেন ঘাসের নীচের ভাঁওতা শেকড়।
খ্যাঁটন সেরে অনশন আর সাক্ষীগোপাল চারশ' একর!

ডক্টরেটের মিথ্যে মায়ায় লোকসভা পায় নকল নথি।
জয়প্রকাশের গাড়ির মাথায়, তুমিই কি সেই নৃত্যবতী?

পাইয়ে দেবার রাজনীতিতেও ভাঁওতাবাজী করলে ঠিকই;
একবছরে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড অশ্বডিম্ব পাড়ল কী কী?

মিথ্যেকথার জোঁকের মুখে আন্দোলনের লবন দিলে,
যেমন কাণ্ড ঘটার কথা, তাই ঘটেছে সাঁকরাইলে।
------------------------------------------
*সাক্ষীগোপাল= সঠিক সময়ে মুখে কুলুপ আঁটা হাড় হিম শয়তান গোপালটি, যে পুরো ঘটনার সাক্ষী ছিল,
কিন্তু শিল্পধ্বংসের সর্বনাশের সময় টুঁ শব্দটি করেনি!

ফর্ম বনাম কনটেন্ট ~ অনামিকা

ফর্মে যদি ঘাটতি থাকে সেইটি ক্ষমার যোগ্য।
কনটেন্টের ঘাটতি যেটা, সেইটি কিন্তু রোগ গো!
ভুল ধরেছ বেশ করেছ। ভুল সে শুধু ফর্মে।
অল্পস্বল্প ভুল তো হবেই থাকলে কাজে কর্মে।
কিন্তু যখন প্রমাদ সেঁধোয় কনটেন্টের মধ্যে
ধ্বস্ত সময় চাইবে ফেরত ... যা নিয়েছিস শোধ দে!
শোধ কে দেবে? তোমরা তখন চতুর হাঁটায় চলায়
ফল খাচ্ছ বৃক্ষে উঠে ... কুড়োচ্ছ গাছতলায়।
কনটেন্টে ভেজাল তবু নিখুঁত থেকে ফর্মে,
একসঙ্গেই বিরাজ কর, জিরাফে আর ধর্মে!
যাদের জোরে সব ক্ষমতা তাদের রাখ প্রান্তে।
ভেতরদিকে ভাঙ্গন ছিল চাওনি সেটাও মানতে!
পরস্পরকে হারাও যেন ম্যাঞ্চেস্টার চেলসি।
তোমরা আমার জোনাল ... ডিসি ... চোখের মণি এলসি!
দশ আঙুলের মুক্তো প্রবাল মার্ক্সকে করে ঠাট্টা।
বড়দা খেলেন সুপারলোটো, ছোড়দা তুমুল সাট্টা।
বড়দা' খোঁজেন আবগারি মদ, চুল্লু শোঁকেন ছোড়দা।
আমার উঠোন দাপিয়ে বেড়ায় অসভ্য আস্পর্ধা।
মিডিয়াদের দোষ দিওনা। ওদের কাজই কেচ্ছা।
নিজেও তো কই সামলাওনি আত্মহনন ইচ্ছা।
নিজের পক্ষে তুলবে হাওয়া ওদের এমন গুণ নেই
বাতাস তোমায় ছাড়ছে তোমার উপার্জনের পুণ্যেই।
তোমার ভরসা করছি না আর। সাজছি নিজের বর্মে।
সামনে লড়াই, ফিরবো নিজেই কঠিনতম ফর্মে।

অ্যাজেন্ডা ~ অনামিকা

ভোট চলে এল। আয় ছবিটা গোছাই।
যে করেই হোক ক'টা মৃতদেহ চাই।

তাপসী ... নন্দীগ্রাম নয় মোটে তাজা।
ঠান্ডা জিলিপি যায় কতবার ভাজা?
রাজারহাটের লোক বড়ই চতুর।
মিছিলেই আসছেনা, মরা বহুদূর!

আর বাকি যে ক'জন রোজদিন মরে,
সবই সিপিএম তারা, বলছে খবরে।
বুদ্ধিজীবীরা তাই বড় চুপচাপ।
সিপিএম মরলে কি কাঁদা যায় বাপ?

উসখুস করি রোজ। কী যে করি আমি!
চাইছি মরুক কিছু তৃণঅনুগামী।
হায় হায়, কী উপায় বলছে না কেহ,
কোথায় কীভাবে পাই ক'টা মৃতদেহ!

ভোটের যে কমিশন ... ভারি বদমাস।
এগোতেই চাইছেনা শেষ কয়মাস।
আসলে চাকর তারা, তবু জেদি বোকা।
আজ হবে, কাল হবে, দিয়ে যায় ধোঁকা।

মানছে না মিছে কথা, ভোটার গাধারা।
গণতন্ত্রে যে কেন বোকা বোকা ধারা
অযথা বহাল থাকে। কী হবে উপায়
জনগণ শেষমেস যদি বেঁকে যায়।

কল্যান পার্থরা তারাও কি আর
দেরি হলে রাজি হবে? শুধুই বিয়ার!
এ কেমন ককটেল? আর কতকাল
মাংস খাবে না তারা, শুধু ভাত ডাল?

ভুলে গেলি তোরা সব শ্বাপদশাবক?
দামাল বাছারা ... তোরা যে করেই হোক,
বোমা হোক ... গুলি হোক ... হোক ঘনঘটা ...
সংগ্রহ করে আন ডেডবডি ক'টা।

তারপর দেখ, আমি কি দেখাই খেল!
বনধ আর অবরোধ ... সকাল বিকেল।
ততদিনে ভোট, আর ভোট হলে পরে ...
কে না জানে আমি রাণী লাশ কাটা ঘরে!

সামনে দিন। নেই লড়াই। ~ অনামিকা

উড়বি না আর। এবার আগাম লাগাম পড়ুক পক্ষীরাজ।
পারফিউমের সন্ধান নিক অরণ্যময় গন্ধরাজ।
খুব ক্ষমতার মিথ্যে নোটিস পৌঁছোলে কেউ তোর হাতে,
কাঁপতে কাঁপতে মার্জনা চাস, এবার থেকে জোড় হাতে।
দরকার নেই আন্দোলনের, দরকার নেই টেনশনের।
সামনেই দিন শস্যশ্যামল গ্র্যাচিউটি আর পেনশনের।

এই সময়ে পাগল না কি? দুষ্ট ক্ষতয় চুলকালি!
কি করবি তুই, সার্ভিস বুক মাখবে যখন ঝুলকালি?
আইন খুঁজেছিস? আইন কখনও ক্রীতদাসদের পক্ষে যায়?
ডাকছে মালিক ... শিরদাঁড়া খোল ... আয় কেঁচো আয় ... বক্ষে আয়!
যেমন ভাবে জীবন কাটায় আর পাঁচজন ভদ্রলোক
তেমন ধারায় দিনযাপনের এইবারে তোর ইচ্ছে হোক!

বাধ্য হয়েই ঢালছে মালিক সাধ্যমতন অসন্তোষ।
তাও কি মাথা রাখবি উঁচুই। কার ভরসায়? কী আপশোষ!
 

প্রতিরোধের গান ~ অনামিকা

কথা মিশুক সুরে, বাঁচার আশ্বাস থাক গানে,
তিন পৃথিবী আটকে থাকুক ভালবাসার টানে।
পাহাড় নদী ধানের ক্ষেতে সবুজ ঘাসে ঘাসে
চাইছে মানুষ এই ছবিটাই, অজস্র ক্যানভাসে!



হিংসুটে কেউ সেই ছবিতে যখন ঢালে কালি,
মানুষখুনের উসকানিতে ছেটায় গালাগালি,
প্রত্যেকদিন একটা দু'টো তীব্র মৃতদেহ
চিনিয়ে দেয় হিংস্রতাকে, থাকেনা সন্দেহ,
ছদ্মবেশী মানুষখেকো লুকিয়ে রেখে নখ,
বুদ্ধিবিবেক পুঁজির কাছে রেখেছে বন্ধক!




রেলগাড়ীতে মালিক পাঠায় মাসিক মাসোহারা
সন্ত্রাসে দিনরাত্রি জাগে তোমার আমার পাড়া!


দারুণ ব্যথায় ঝলসে ওঠে যুক্তি এবং ক্রোধ
ভয় সরিয়ে জন্ম নিচ্ছে তীব্র প্রতিরোধ।
পুড়ছে মুখোশ, পয়সাখাওয়া খুনী নাটকবাজি।
রক্তমাখা বাংলা এবার শুদ্ধ হতে রাজী ...

All are equal, some are more equal! ~ অনামিকা

দুনিয়া চমকে গেছে, পাহাড়ের মুষিকপ্রসবে!
গেলে যাক ... ও স্বদেশ, তুমি কান দিও না ওসবে।
যাই হোক, এতদিনে হাসিমুখে জেগেছে বিবেক।
বিচারের প্রহসন শেষ হল আইন মোতাবেক!
বোকাদের বোবাদিন গুমরেছে পঁচিশ বছর।
কি নরম আইন আহা! জামিনও দিয়েছে এর পর।

আদৌ কি কেউ ঝরে পড়েছিল সেদিন ওখানে,
শীতের পাতার মত? সিবিআই সব কথা জানে!
ঘুমে গুঁড়ি মেরে আসা খুনি কীটনাশকের ফলা,
কোনও চোখে বিঁধেছিল? জ্বলেছিল শ্বাসনালী ... গলা?
মায়ের গর্ভে ভ্রুণ অঙ্গহীন হয়ে গেল শোকে।
সে খবর মুছে যাক ঝকঝকে একুশ শতকে।
তর্ক কোরো না। তুমি চাইলেই ভুলে যাবে "মিক"...
মারণভূমিকা ভরা যে কুয়াশা বিষের অধিক!
না কোনও যুদ্ধ নয় ... পুঁজি আর লোভের মহিমা
ভূপালকে একরাতে করেছিল নয়া হিরোশিমা।

সিবিআই সব জানে। কোন ধারা নরম পেলব।
আইনের হাত ধরো। আইপিসি করে কলরব।
এ গণতন্ত্রে নাকি সকলেই নিছক সমান?
সেটা যে কথার কথা ভূপাল তা করেছে প্রমাণ।

আদেশ মেনেছি, কিন্তু ... ~ অনামিকা

আদেশ মেনেছি, কিন্তু ...

আদেশ করেছ। লেখা মুছে ফেলে, মেনেছি হুকুম।

কিন্তু যদি মাঝরাতে কান্না আসে, ভেঙ্গে যায় ঘুম;

যদি কোনও পিছমোড়া হাতবাঁধা ভেজা লাল ছবি,

মাথার ভেতরে এসে কড়া নাড়ে; তবে বলো কবি,

কি প্রবোধ দেব তাকে? ওই লাল বড় তীব্র ... নোনা।

অশ্রুর তর্পন দেব! সেইটুকু বারণ কোরোনা।


চ্যানেলশোভিত যত নাগরিক ভাবনাবিলাস,

হয়তো তা' খুবই দামী। তবু দু'শো বনবাসী লাশ

আমাকে সমস্বরে প্রশ্ন করে, "কি ছিল হে দোষ?

উসকানি দিয়ে মারলে। নিজেরা তো মজার আপোস

করে নিলে দিকুবাবু! এ'রকম মেকি বিপ্লবে,

নিরুপায় মৃত্যুছাড়া অরণ্যের কোনও লাভ হবে?"

 

এ'শহর খুব বোঝে, আড়ি ভাব ভালবাসাবাসি।

সে কথা জানেনা বলে, মরে গেল বোকা আদিবাসী!

কি করে ভুলব কবি, কারা ওই লালমাটি দেশে,

হত্যার ষড়যন্ত্র দিয়ে এল, "স্বজন"এর বেশে?

হারজিত ~ অনামিকা

কে বলেছে হেরে গেছ? কোনওদিন জিতেছিলে না কি?

লাল আলো ... কলরব ... ব্ল্যাকক্যাট, আসলে তো ফাঁকি।

ওদের নিয়মে খেলা। ক্ষমতার ভাগ উঁচুনীচু

তাতেই মুগ্ধ তুমি? কোনওদিন এর বেশি কিছু

স্বপ্ন, সত্যি বল, চোখ জুড়ে ছিলনা কখনও?

কোথায় হারালো সে'টা? শোনো, চুপ, কান পেতে শোনো!

মানুষ গোপনে কাঁদে। বাঁচবার বড় সাধ তার।

কি ভাবে মেটে সে সাধ? সেখানেই তোমার জেতার

কথা ছিল। মনে আছে? মনে পড়ে সেই রাগ ক্ষোভ?

ছেলেটির কাজ নেই। মেয়েটিকে অন্ধকার লোভ

রোজ রোজ গিলে নেয়। নবান্ন আসে না যে গ্রামে,

ওদের ইচ্ছে হলে গণতন্ত্ররথ এসে থামে।

সাজানো শপিংমল নাইটক্লাব ভোগের আওয়াজ

কিছুই তোমার নয়। কেন ভাব হেরে গেছ আজ?

 

মানুষ কি জেতে হারে? তুচ্ছ ভোটে জয় পরাজয়

ক্ষমতার ক্ষুদকুঁড়ো কে কুড়োবে নির্ধারিত হয়!

সময় ডাকছে খুব। ইতিহাস নয় বদতমিজ।

কখনও হেরো না তুমি। মনে রেখো তুমি রক্তবীজ!

আমি বুদ্ধিজীবি ... ~ অনামিকা


সভ্যতার শুরু থেকে আমি আছি ... আমি বুদ্ধিজীবি।
শিখিনি হাতের কাজ। মেধা আছে, মিডিয়া পৃথিবী
"বিদ্বজন" বলে ডাকে! তালি দেয়, "সাবাস! সাবাস!"
বুদ্ধিহীন "জনগণ", তোরা ঘাম ... তোরা ক্রীতদাস।
তোদের দুঃখে রাতে ঘুমোইনা ... দিনে সোমরস!
ন্যাকামির পরীক্ষায় আমি ফার্ষ্ট, আমি দশে দশ।

আমি ছবি ... কথা ... গান, আমি মঞ্চ ... আমি হেরিটেজ!
ক্ষমতার এঁটো কাঁটা সবই খাই ... ভেজ ননভেজ।

আমি ব্রাত্য, আমি শাঁওলি, আমি জয় , কৌশিক, সমীর।
ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া শুভা, আমি ঝানু দালাল জমির!
"মা"কে বিক্রি করতে পারি। আকাশের বৃষ্টি পশলাকে ...
তাও বেচে দিতে পারি কমবেশি পাঁচ ... দশ লাখে!
মানুষ মরলে আমি "মানবতা"ধ্বজাধারী ... চুপ!
রক্তমাখা ভদ্রখুনি, সন্ত্রাসের দিই নাট্যরূপ।

রাজার হুকুমে চলি! তাই আমি সেরা সভাসদ।
আমি গাধা ... সুরে সাধা! আমি জানি, আমি অতি বদ!

ছিঃ ... মৃতভোজী বিদ্বজন ... ছিঃ ... ~ অনামিকা

 


প্রত্যেকদিন খুন করে যায় "জনগনের আদালত"
"মরছে সিপিএম-এর দালাল", তোদের মুখে বাঁধা গত!

রেলকামরা তুবড়ে গিয়ে মরল যখন দুইশ' জন,
রাজনৈতিক প্রচার করতে, প্রেসক্লাবে যাস তুই স্বজন!
মাসান্তে পাস কাঁড়ি মাইনে, বিপদ এলে গুটোস লেজ ...
বুক ফাটানো কান্না শুনিস? না না ... তোরা তো হেরিটেজ!

পাড়ায় পাড়ায় খুঁজছে সবাই, ওই খুনিদের বন্ধু কে?
কারা যোগায় সংস্কৃতিময় বারুদ ওদের বন্দুকে?
শশধরের সাথে মিটিং ... ব্যাপারটা খুব রোমান্টিক ...
সুশীলরা যে আদৌ মানুষ, এইবারে তার প্রমান দিক!

ক্ষমতালোভী শিলাদিদিকে এবার তোরা বোঝা না ...
বাঘের পিঠে চড়া সহজ। কিন্তু নামা? সোজা না!

বিষ তাহার ... ইস্তাহার ~ অনামিকা

আমাকে জেতাবি! আমি জিতলেই কলকাতা হবে লন্ডন।
করকোষ্ঠির বাম গ্রহরেখা সব হয়ে যাবে খণ্ডন।

আমাকে জেতালে সাজিয়ে তুলব পচা নিমতলা ঘাট।
তোদের মারব ... যত্নে পোড়াব ...। ফ্রি তে চন্দন কাঠ।

জলকর? ছি! ছি! উথলে উঠবে রক্তজলের ফোয়ারা।
আমাকে জেতালে কলকাতাটাকে করব দান্তেওয়ারা!

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধবে, আমাকে না যদি জেতাস।
ন্যায় অন্যায়? দরকার হলে, এখুনি খেলব সে তাস!

আমি উসকানি। আমি জাতপাত। কলকাতা মেরি জান!
আমি ইফতার। আমিই মতুয়া। আমি প্রচণ্ড ভান।

হবেই জিততে। কারুর চিত্তে শান্তি দেব না কোনও।
আমি না জিতলে রাস্তা কাটব ... অবরোধ ঘন ঘন!

আগুন লাগাবে দামাল ছেলেরা। কাউকে দেবনা রক্ষে!
বড় সুখ প্রাণে। মাওবাদীরাও আছেন মিত্রপক্ষে।

নগদ মূল্যে কিনেছি শাঁওলি ... ব্রাত্য ... মহাশ্বেতা!
জিতব, কারণ "জিততে জানলে" তবেই তো যায় জেতা!

 

জবাবদিহি ~ অনামিকা

ওরা নয় তত যুক্তিনিষ্ঠ ...
তাইতো পায়ের তলায় পিষ্ট!
আদৌ মরতে হত কি ওদের,
ট্রেনে না চাপত যদি?
ছোট মুখে বড় করিস তর্ক।
জনগণ কেন নয় সতর্ক?
ট্রেন ছেড়ে যাবে ... যাকনা বাছারা ...
মন্ত্রীর থাক গদী!

মরে গেল যারা অকৃতজ্ঞ।
পণ্ড করতে চাইছে যজ্ঞ।
ট্রেন প্ল্যাটফর্ম পালটানো মানে ...
"পরিবর্তন" সেটাও!
যারা সোজা কথা বুঝতে চায়না,
তারা সিপিএম, নোংরা হায়না,
মৃত্যু ওদের সঠিক প্রাপ্য ...
সেই পাওনাটি মেটাও।

রেলের যাত্রী, তোদের জন্য
কমিটির মাথা শুভাপ্রসন্ন!
স্বর্গযাত্রা ভরপুর হোক ...
সুখে আর স্বাচ্ছন্দে!
অর্ধলক্ষ মাসের মাইনে,
উঁহু ... কোনও কথা শুনতে চাইনে
তোরাও তো পাবি ওই টাকাটাই ...
মরলে ... পরমানন্দে!

পরিবর্তন চাইছি আমরা।
রঙ পালটাল রেলের কামরা ...
শেষ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মেরও
বদল ঘটতে পারে।
সবাই বলছে ... "প্রিয় মমতাজী
তুমি চাইলেই প্রাণ দিতে রাজি"!
একটা বা দুটো মৃত্যুতে তাই
লজ্জা লাগছে না রে!

বিশিষ্টজন ~ অনামিকা

ওঁরা সবাই "বিশিষ্টজন", ইচ্ছে মতন জবাই
করতে পারেন। হুকুম দিলেই মান্য করিস সবাই!
পদ্য লেখেন, নাটক করেন, ওঁরা আঁকেন ছবি।
শবসাধনাও করেন, আছে দুরন্ত ভৈরবী।
চাইলে পরেই ভৈরবী দেয় মৃতদেহের জোগান।
বুদ্ধিবেচা তান্ত্রিকেরা, এ বাংলাকে ভোগান!
মোদীর চেলা হাফ নকশাল, এদের অধিকাংশ
কারণবারির সঙ্গে চিবোয় টাটকা মানুষ-মাংস।
আবার যখন উঠল বেজে নির্বাচনের বাদ্য,
"বিশিষ্টজন" মঞ্চে নামেন যার যে রকম সাধ্য!
একাংশ খুব নাড়ান দাড়ি, করেন হুকুমজারি।
গাঁ'য় মানে না, মোড়ল সাজার সংস্কৃতি-সর্দারি।
অন্যগুলো মুখোসপড়া, বলেন মাথা চুলকে...
লাভের নিমক খেলাম ... তোরা জেতাস তৃণমূলকে!
চেঁচায় নানান রেলকমিটি, চেঁচায় কচিনেতাও ...
অর্ধলক্ষ মাস মাইনে, ভৈরবীকে জেতাও!
আখের গোছায় বিশিষ্টজন। কিন্তু এতক্ষণ যে
অপেক্ষাতে ক্লান্ত বেকার, শহর গ্রামে গঞ্জে ...
হতাশ হয়ে চাইছে হিসেব ... "করলে ন্যানো গায়েব
শিলান্যাসের চাকরি কোথায় বাবু বিবি সায়েব?
আমরা সবাই রাখছি খেয়াল, সমস্ত আর্টস একর।
একসঙ্গেই উপড়ে ফেলব আগাছা আর শেকড়!"
Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks